ভারতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে জুলাইয়ের প্রবল গণআন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের পতন ঘটেনি বটে; তবে মোদির গদি কেঁপে ওঠে ঠিকই। মোদির ডানহাত অমিত ক্ষমতাধর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দর্পচূর্ণ হয়েছে। সংসদে (লোকসভা) তার অনেক দিন গরহাজির থাকা এবং ‘ভয়ে’ রীতিমতো ভড়কে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের খোরাক হয়। আরেক ক্ষমতাবান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ ও দাম্ভের মস্তক অবনত করতে বাধ্য হন। বিশে^র সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার গণতান্ত্রিক দেশটির ‘গণতন্ত্র’ রক্ষা পায়। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নীট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম-দুর্নীতির কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধে ওঠে জোরালো আন্দোলন। যা নয়াদিল্লীর যন্ত্রর মন্তর চত্বর ছাড়িয়ে সুদূর বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মুম্বাই, পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ বলতে গেলে ভারতের বড় অংশজুড়েই দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা’র ব্যানারে অর্থাৎ ক্ষমতাসীন বিজেপির বিপরীতে প্যারোডি ‘সিজেপি’Ñ এহেন ব্যাঙ্গাত্মক নাম দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। তবে চমকপ্রদ ব্যাঙ্গাত্মক হলেও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনের আগাগোড়া কৌশল ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল, তথ্য-প্রযুক্তি তথা ডিজিটাল নির্ভর ও দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত। সিজেপি’র আহ্বান মাত্র এক সপ্তাহেই বিস্ময়কর সাড়া জাগায়। রাজপথে বিজেপি সরকারের কঠোর ও নিষ্ঠুর দমনপীড়নে বরং আন্দোলনকারীদের ঐক্য এবং শক্তি মজবুত হয়। সরকারের গদিকে করে তোলে টালমাটাল।
কী সেই মন্ত্র বা ম্যাজিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে’র নেতৃত্বে তারুণ্যের নজিরবিহীন গণআন্দোলনে? নয়াদিল্লীর যন্ত্রর মন্তর চত্বর, বিহারের পাটনা, কোলকাতা, মুম্বাই থেকে শুরু করে আন্দোলনে উত্তাল থাকা রাজপথে-প্রান্তরে দেখা গেছে অনুপম সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এক কাতারে শামিল হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ এমনকি নিম্নবর্ণের (অচ্যূৎ হিসেবে কথিত) হিন্দুরাও। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান রাস্তায় নামাজ পড়ার সময়ে একজন পুরোহিত হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন পাশে থাকা মুসলিমকে এবং নিজেকেও। আন্দোলনের সহযোদ্ধা মুসলমান ব্যক্তিবর্গ রাজপথে আন্দোলরনরতদের জন্য রান্নাবান্না করা খাবার নিয়ে এসেছেন। দেখা গেছে সেই খাবারগুলো বিলিবণ্টন করছেন পাশে দাঁড়ানো হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন। অবিরাম সেøাগান উচ্চকিত হচ্ছে সবধর্মের মানুষের সম্মিলিত এক আওয়াজেÑ ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব; জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’। বোরকা বা হিজাব পরিহিত নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে নয়াদিল্লী নগরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের মাঠে-ময়দানে।
অন্যদিকে অভিজিৎ দীপকে’র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ব্যানারে তীব্র আন্দোলন দমনের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দিশেহারা হয়ে সেই পুরনো বস্তাপচা ছক ধরেই রাষ্ট্রের তরফে প্রতিক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রেপাগান্ডায় বলা হলো, ককরোচ পার্টি (সিজেপি) ‘জিহাদী’ কায়দায় হিংসাত্মক আন্দোলনের নামে ভারতে অশান্তি এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। উন্নয়নকে তারা ব্যাহত করতে চাইছে। আন্দোলনকারীদের নামে তকমা বা ট্যাগিং দিতে গিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সিজেপির আন্দোলনে থাকা বেশিরভাগ কর্মী বা অনুসারী নাকি পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত। ‘মোদি মিডিয়া’ বা ‘গদি মিডিয়া’ হিসেবে দীর্ঘদিন তালি বাজানো ভারতীয় অধিকাংশ গণমাধ্যমও বিজেপি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপপ্রচারে যোগ দেয়। অপরদিকে সেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দাঁতভাঙা জবাব দিতে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত হাজির করেন। তিনি ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণায় প্রমাণ সহকারে দেখালেন, আন্দোলনকারী প্রায় ৯৫ শতাংশ অনুসারীই ভারতীয়। সেখানে পাকিস্তান-বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচেও নেই। ককরোচ জনতা পার্টির পাল্টা এবং ডিজিটাল উপযুক্ত জবাবের ফলে মোদির বিজেপি সরকারের অপপ্রচার ধোপে টেকেনি। স্মরণ করা প্রয়োজন, মোদির বিজেপি মূলত ডিজিটাল বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমকে চাতুর্যের সঙ্গেই ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে সক্ষম হন। সেই ডিজিটাল প্রচারণা-যন্ত্রকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে ককরোচদের তারুণ্যদীপ্ত আন্দোলন বেগবান হয়ে ওঠে।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত এক যুগ যাবৎ ভারতের সিংহাসনে আরোহন এবং ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে বিজেপি শাসনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে যে কোনো স্থানে যে কোনো প্রতিবাদ, ভিন্নমত ও প্রতিরোধকে অবদমিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপকৌশলে ট্যাগিং বা তকমা দাগিয়ে দ্রুত নিঃশেষ করে ফেলা। এহেন অপকৌশলের সর্বাপেক্ষা বেশিহারে এবং নির্মম শিকার হচ্ছেন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকগণ। ইতঃপূর্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শাহিনবাগে যখন মুসলিম মহিলারা টানা ১০১ দিন অবস্থান করেছিলেন, তখন ‘মুসলিম উগ্রবাদ’, ‘ভারত গেলো-ভারত গেলো’ এবং ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে তকমা দেয়া হয়েছিল। এর আগের ছাত্র-যুব আন্দোলনসমূহকে পুরনো অপকৌশলে ‘আরবান নকশাল’ ও ‘বাম ষড়যন্ত্র’ বলেই ট্যাগ দেয়া হয়। কৃষক আন্দোলনকে তকমা দিতে অভিযোগ তোলা হয় ‘টুলকিট’ এবং ‘খালিস্তানি অনুপ্রবেশ’-এর।
শুধু তাই নয়; বিজেপি সচেষ্ট যাতে শহর-নগরের সাধারণ মধ্যবিত্ত হিন্দু ভোটারের সঙ্গে যে কোনো ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের দূরত্ব বজায় রাখার বন্দোবস্ত করা যায়। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনের ক্ষেত্রে এহেন অপকৌশল কাজে আসেনি। তাদেরকে তকমা দাগিয়ে কুপোকাৎ করার মতো যুক্তি, বুদ্ধিবৃদ্ধিক কৌশল এবং উপাদান বহু চেষ্টা করেও হাজির বা প্রমাণ করতে পারেনি বিজেপি সরকারি মহল। সিজেপির নেতৃত্বে কোনো পরিচিত ‘বাম’ কিংবা তথাকথিত ‘ইসলামপন্থী দলে’র অংশগ্রহণ নেই। সামনের কাতারে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংগঠন নেই। গ্রামীণ কৃষক-মজদুরও নেই। নয়াদিল্লীর যন্তর মন্তরে অথবা পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যারা হাজির; তাদের মধ্যে ছিল পরীক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও প্রত্যাশী, শিক্ষিত বেকার তরুণ-যুবক-তরুণী, কোচিং সেন্টারের ছাত্র-ছাত্রী, ছোট ও মাঝারি শহরে চাকরিপ্রত্যাশী, নতুন স্নাতকসহ মোদ্দাকথায় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত একদল নাগরিক, তরুণ, চরম হতাশ মধ্যবিত্তশ্রেণি, সীমিত আয়ের পিতামাতার সন্তান। যারা বর্তমান ও ভবিষ্যতের অশ্চিয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছে।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি অনবরত ট্যাগিং, তকমা কিংবা ন্যারেটিভ দিয়ে ক্ষমতায় আরোহন এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সবরকম কৌশলে ‘পারদর্শী’ বিজেপি’র পুরনো সেসব কলাকৌশল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের প্রবল আন্দোলনে ভেসে গেছে। হিন্দু, মুসলমান, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নিম্নবর্ণসহ সবধর্মের অনুসারী ভারতের জনগণের পুনর্মিলনক্ষেত্রে পরিণত করতে সক্ষম হয় জুলাইয়ের গণআন্দোলন। এর মধ্যদিয়ে পরিচ্ছন্নভাবেই ফুটে পরিস্ফুট হয় ভারতের আপামর জনগণের চাওয়া-পাওয়া অর্থাৎ বিজেপির সাম্প্রদায়িকতাবাদ, উগ্র হিন্দুত্ববাদ এবং মুসলিমবিদ্বেষ ও ঘৃণার বিপরীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রবল আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে মুক্তির চেতনা, সুর। এই স্পিরিটকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের জনসাধারণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-যোগী আদিত্যনাথ-শুভেন্দু অধিকারীদের বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছে তরুণ প্রজন্মসহ আপামর জনতা। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শত শত বছরের মসজিদ উচ্ছেদ, নামাজ ও আজানে বাধা প্রদান, বিভিন্ন শহর-জনপদে মুসলিম ঐতিহ্যের স্মৃতি-স্মারক নির্মূল, মুসলিম নাম পরিবর্তন এমনকি তাজমহল গুঁঁড়িয়ে দেয়া হবে মর্মে ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হুমকি-ধামকি থামেনি। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও বিভিন্ন রাজ্যের নিরীহ ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অপপ্রচার চলিয়ে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশে।
অন্যদিকে মুসলিমবিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণানির্ভর বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের রাজনীতির বিপরীতে আপাতঃ সম্প্রীতি ও স্বস্তির আবহে একত্রে পথচলার যে বার্তা তারুণ্যের আন্দোলনে বেরিয়ে এসেছে তা ভারতের জনগণ সাদরে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যদিয়ে পুনঃপ্রমাণিত হয়েছে, ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংস্কৃতি-মূল্যবোধ ও গৌরবগাঁথার সমৃদ্ধ শিকড় ভারতবর্ষের গভীরে প্রোথিত রয়েছে সর্বত্রই। তা মুছে দেয়ার অপচেষ্টার মানে ভারতের গৌরবময় হাজার বছরের অতীত ঐতিহ্যকেই অস্বীকার করা। সেই গৌরবকে পুনরুদ্ধার করেছেন সাম্প্রতিক আন্দোলনে উত্তাল রাজপথে আধুনিক ও নতুন দিনের স্বপ্নবাজ তরুণরা। নয়াদিল্লীর যন্তর মন্তর চত্বরের আন্দোলন সেই শিক্ষাই রেখে গেছে।
ক্ষমতাসীন মোদির বিজেপি সরকারের বহুল আলোচিত সেøাগান হচ্ছেÑ ‘সবকা সাথ- সবকা বিকাশ’। যার অর্থ ‘সবার সাথে সবারই বিকাশ’। অথবা ‘সকলকে সাথে নিয়ে- সকলের উন্নয়ন’। বাস্তবে বিজেপি কি পেরেছে সেই আশ^াস পূরণে? ভারতের বর্তমান কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার দৈনদশার দিকগুলো ফুটে উঠেছে তারুণ্যের নেতৃত্বে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে। ভারতের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভারতে তরুণ বেকারত্বের হার (১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে) বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে; যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এটি ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, বেকার তরুণদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই স্নাতক। অথচ পুরুষ স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি পান।
গত জুলাই মাসে পাঞ্জাব-হরিয়ানার কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্যের দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন। শিক্ষিত বেকার তরুণীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুই কি তা-ই? মোদি সরকারের আমলে প্রতিবেশী কোনো একটি দেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক সুখকর নয়; বরং শীতল এবং তিক্ততায় পূর্ণ। তা বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, পাকিস্তানÑ সবক’টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই দূরত্ব তৈরি করেইে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রেও বিজেপির সেই ‘সবকা সাথ- সবকা বিকাশে’র সুর অনুপস্থিত। সবকিছু মিলিয়ে বিজেপি’র সেøাগান ‘সবকা সাথ- সবকা বিকাশ’ নিছক একটা ফাঁকা বুলি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন আইটি প্রযুক্তিভিত্তিক সৃজনশীল তরুণ আন্দোলনকারীরা।
Reporter Name 
























