ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

সিলেট-সুনামগঞ্জে কাটেনি বন্যার শঙ্কা, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজারে পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ শুক্রবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ার ফলে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

এ দিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এসব নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারার পানি বাড়লেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে। ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সিলেট-সুনামগঞ্জে কাটেনি বন্যার শঙ্কা, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজারে পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

আপডেট টাইম : ১২:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ শুক্রবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ার ফলে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

এ দিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এসব নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারার পানি বাড়লেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে। ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে।