ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

১৭ জুলাই: ক্যাম্পাস থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ বার

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। শিক্ষার্থী আবু সাইদের নিহতের ঘটনার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, নিহতদের গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিলসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দফায় দফায় পুলিশ হামলা চালালে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ১৭ জুলাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কারার প্রস্তুতি নেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধায় ভিসি চত্বরেই গায়েবানা জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় কর্মসূচি পন্ড করতে সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ।

গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে পণ্ড হয় কফিন মিছিল। এরপরই শুরু হয়, হলে হলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। এতে হল পাড়ায় শুরু হয় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের সাথে হামলা চালায় ছাত্রলীগও। প্রায় ঘণ্টাব্যপী চলে এমন অবস্থা।হল ছাড়তে বাধ্য হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একই সাথে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করে হলের কর্তৃত্ব নেয় ও আন্দোলন চালিয়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে এদিন সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের স্পষ্ট প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। সারা দেশে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যা: যুবদল আহ্বায়ক নৌশাদ গ্রেপ্তার

১৭ জুলাই: ক্যাম্পাস থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন

আপডেট টাইম : ০২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। শিক্ষার্থী আবু সাইদের নিহতের ঘটনার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, নিহতদের গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিলসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দফায় দফায় পুলিশ হামলা চালালে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ১৭ জুলাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কারার প্রস্তুতি নেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধায় ভিসি চত্বরেই গায়েবানা জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় কর্মসূচি পন্ড করতে সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ।

গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে পণ্ড হয় কফিন মিছিল। এরপরই শুরু হয়, হলে হলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। এতে হল পাড়ায় শুরু হয় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের সাথে হামলা চালায় ছাত্রলীগও। প্রায় ঘণ্টাব্যপী চলে এমন অবস্থা।হল ছাড়তে বাধ্য হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একই সাথে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করে হলের কর্তৃত্ব নেয় ও আন্দোলন চালিয়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে এদিন সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের স্পষ্ট প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। সারা দেশে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।