ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার

আগামী ২০ বা ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হিসেবে নয়, বরং নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর চিকিৎসক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তি-নির্ভর হোক না কেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকে। চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তিই হলো মানবিকতা। অনেক সময় একজন রোগীর জন্য চিকিৎসকের একটু আশ্বস্ত করার বাক্যও ওষুধের মতো কাজ করে।’

চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা হয়নি উল্লেখ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স রোটেশনে দায়িত্ব পালনের সময় অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’, যেখানে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সহমর্মিতা পাবেন।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছি, আমাদের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আমাদের পরিচয়ের শিকড় একই-ঢাকা মেডিকেল কলেজ। এখন সময় এসেছে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনেও আবদ্ধ হওয়ার।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়, বরং তার মানুষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, মূল্যবোধ এবং তার মানুষরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি জীবন জড়িয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত প্রতিযোগিতার মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে আনন্দঘন কিছু সময় কাটিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’- এর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই থাকতেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোয়া করি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হোন।’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। এ সময় স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যখন জুবাইদা রহমানকে মেডিকেলে নিয়ে আসতাম, তখন তাকে সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে আসতাম। আজও আসার সময় তাকে বলেছি সামনের সিটে বসতে। পাশে বসিয়েই আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।’

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই ক্যাম্পাসে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময় কেটেছে। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।’

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবসময় সামনের দিকে তাকাতে হবে। জীবনের টানাপোড়েনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ পুষে রাখলে চলবে না। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে সারা বিশ্ব এখানকার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারে। একদিন যেন এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’ সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেট টাইম : ০১:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আগামী ২০ বা ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হিসেবে নয়, বরং নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর চিকিৎসক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তি-নির্ভর হোক না কেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকে। চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তিই হলো মানবিকতা। অনেক সময় একজন রোগীর জন্য চিকিৎসকের একটু আশ্বস্ত করার বাক্যও ওষুধের মতো কাজ করে।’

চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা হয়নি উল্লেখ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স রোটেশনে দায়িত্ব পালনের সময় অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’, যেখানে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সহমর্মিতা পাবেন।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছি, আমাদের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আমাদের পরিচয়ের শিকড় একই-ঢাকা মেডিকেল কলেজ। এখন সময় এসেছে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনেও আবদ্ধ হওয়ার।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়, বরং তার মানুষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, মূল্যবোধ এবং তার মানুষরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি জীবন জড়িয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত প্রতিযোগিতার মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে আনন্দঘন কিছু সময় কাটিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’- এর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই থাকতেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোয়া করি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হোন।’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। এ সময় স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যখন জুবাইদা রহমানকে মেডিকেলে নিয়ে আসতাম, তখন তাকে সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে আসতাম। আজও আসার সময় তাকে বলেছি সামনের সিটে বসতে। পাশে বসিয়েই আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।’

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই ক্যাম্পাসে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময় কেটেছে। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।’

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবসময় সামনের দিকে তাকাতে হবে। জীবনের টানাপোড়েনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ পুষে রাখলে চলবে না। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে সারা বিশ্ব এখানকার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারে। একদিন যেন এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’ সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তোলেন শিক্ষার্থীরা।