ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

আজ বিশ্ব কাঁঠাল দিবস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ বার

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। বিশেষ করে মাংসের বিকল্প হিসেবে কাঁচা কাঁঠালের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি আমাদের খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকেই কাঁঠাল বাংলার মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরেই ‘গরিবের মাংস’ বলেন। কারণ, আঁশযুক্ত গঠনের কারণে রান্নার পর এটি অনেকটা মাংসের মতো স্বাদ ও টেক্সচার তৈরি করে।

অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদ ও সুবাসের জন্য জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কাঁঠাল সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অন্যান্য অনেক দেশীয় ফলের তুলনায় তুলনামূলক বেশি প্রোটিন।

পুষ্টিগুণ, বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্য হিসেবে কাঁঠাল আজ বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচিতি পেয়েছে। একসময় যা ছিল মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া ফল, এখন তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁ ও রান্নাঘরে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশেই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের এলাকাগুলো কাঁঠালের উত্‍পত্তির স্থান হিসেবে বিবেচিত। ব্রাজিল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকায় সীমিত পরিমাণে কাঁঠাল জন্মে। বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণ ভারত, বিহার, মায়ানমার, মালয়, শ্রীলংকা ইত্যাদি এলাকায় যে হারে কাঁঠাল চাষ হয়, এই পরিমাণে বিশ্বের আর কোথাও কাঁঠাল চাষ হয় না।

উৎপাদনের দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে। ভারতের পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ।

জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল শুধু ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, পুষ্টি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব বাড়ছে। বিশ্ব কাঁঠাল দিবসে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে আসে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

আজ বিশ্ব কাঁঠাল দিবস

আপডেট টাইম : ০৩:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। বিশেষ করে মাংসের বিকল্প হিসেবে কাঁচা কাঁঠালের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি আমাদের খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকেই কাঁঠাল বাংলার মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরেই ‘গরিবের মাংস’ বলেন। কারণ, আঁশযুক্ত গঠনের কারণে রান্নার পর এটি অনেকটা মাংসের মতো স্বাদ ও টেক্সচার তৈরি করে।

অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদ ও সুবাসের জন্য জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কাঁঠাল সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অন্যান্য অনেক দেশীয় ফলের তুলনায় তুলনামূলক বেশি প্রোটিন।

পুষ্টিগুণ, বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্য হিসেবে কাঁঠাল আজ বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচিতি পেয়েছে। একসময় যা ছিল মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া ফল, এখন তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁ ও রান্নাঘরে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশেই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের এলাকাগুলো কাঁঠালের উত্‍পত্তির স্থান হিসেবে বিবেচিত। ব্রাজিল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকায় সীমিত পরিমাণে কাঁঠাল জন্মে। বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণ ভারত, বিহার, মায়ানমার, মালয়, শ্রীলংকা ইত্যাদি এলাকায় যে হারে কাঁঠাল চাষ হয়, এই পরিমাণে বিশ্বের আর কোথাও কাঁঠাল চাষ হয় না।

উৎপাদনের দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে। ভারতের পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ।

জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল শুধু ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, পুষ্টি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব বাড়ছে। বিশ্ব কাঁঠাল দিবসে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে আসে।