ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

রোহিঙ্গাদের জন্য কমছে বিদেশি সহায়তা, একবেলার খাবারে বরাদ্দ ১৬ টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ বার

২০১৭ থেকে যে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এখনও। গত দেড় বছরেও প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছেন আরও প্রায় দেড় লাখ মিয়ানমারের নাগরিক।

বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। প্রথম কয়েক বছর এতে বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলেও দিনকে দিন তা কমছে। এ বছর ৭১০ মিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি, তা গতবারের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলছিলেন, ২০১৭ তে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনো রোহিঙ্গাদের অনেকে একই অবস্থার শিকার হচ্ছে। আবার সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে যারা, তারাও ভালো নেই। দ্রুত দেশে ফেরারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের সামনে কোনো আশার আলো নেই; তাই এ সংকটের নতুন সমাধান খুঁজতে হবে।

২০১৭ তে রোহিঙ্গা ঢলের পর গাজা, সুদান ও ইউক্রেন— তিনটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দেও অগ্রাধিকার পেয়েছে সে সব সংকট। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখার আশা দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, যেহেতু ফান্ড কাট হয়েছে, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেয়েছে। সেখান থেকে হয়তো এই রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে আরো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফোকাস করার জন্য উনি কাজ করবেন।

এদিকে, গত বছর যে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল, বাস্তবে মিলেছিল তার অর্ধেক। একদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়তি জন্মহার, নতুন ঢল অব্যাহত থাকা আর বিপরীতে টাকা কমে যাওয়ায় এখন তাদের তিনবেলা খাওয়ানোই দুষ্কর। ৩৩ শতাংশ রোহিঙ্গার জন্য দিনে ১২ ডলার, ৫০ ভাগের জন্য ১০ আর ১৭ ভাগের জন্য ৭ ডলার খাওয়ার খরচ এখন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যেটি সর্বোচ্চ ১২ ডলার ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে, তাতে একজনের একবেলার দাম পড়ে ১৬ টাকা। এই টাকা দিয়ে তো একটা মিল হয় না। মানুষগুলো ক্ষুধার্ত থাকে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে আমাদের একটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস তৈরি হচ্ছে এবং এর সাথে আমাদের নিরাপত্তা জড়িয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় চীনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত কীভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর কাজ অন্তত শুরু করা যায়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের জন্য কমছে বিদেশি সহায়তা, একবেলার খাবারে বরাদ্দ ১৬ টাকা

আপডেট টাইম : ১১:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

২০১৭ থেকে যে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এখনও। গত দেড় বছরেও প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছেন আরও প্রায় দেড় লাখ মিয়ানমারের নাগরিক।

বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। প্রথম কয়েক বছর এতে বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলেও দিনকে দিন তা কমছে। এ বছর ৭১০ মিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি, তা গতবারের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলছিলেন, ২০১৭ তে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনো রোহিঙ্গাদের অনেকে একই অবস্থার শিকার হচ্ছে। আবার সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে যারা, তারাও ভালো নেই। দ্রুত দেশে ফেরারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের সামনে কোনো আশার আলো নেই; তাই এ সংকটের নতুন সমাধান খুঁজতে হবে।

২০১৭ তে রোহিঙ্গা ঢলের পর গাজা, সুদান ও ইউক্রেন— তিনটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দেও অগ্রাধিকার পেয়েছে সে সব সংকট। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখার আশা দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, যেহেতু ফান্ড কাট হয়েছে, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেয়েছে। সেখান থেকে হয়তো এই রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে আরো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফোকাস করার জন্য উনি কাজ করবেন।

এদিকে, গত বছর যে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল, বাস্তবে মিলেছিল তার অর্ধেক। একদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়তি জন্মহার, নতুন ঢল অব্যাহত থাকা আর বিপরীতে টাকা কমে যাওয়ায় এখন তাদের তিনবেলা খাওয়ানোই দুষ্কর। ৩৩ শতাংশ রোহিঙ্গার জন্য দিনে ১২ ডলার, ৫০ ভাগের জন্য ১০ আর ১৭ ভাগের জন্য ৭ ডলার খাওয়ার খরচ এখন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যেটি সর্বোচ্চ ১২ ডলার ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে, তাতে একজনের একবেলার দাম পড়ে ১৬ টাকা। এই টাকা দিয়ে তো একটা মিল হয় না। মানুষগুলো ক্ষুধার্ত থাকে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে আমাদের একটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস তৈরি হচ্ছে এবং এর সাথে আমাদের নিরাপত্তা জড়িয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় চীনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত কীভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর কাজ অন্তত শুরু করা যায়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার।