ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৩৬ বার

হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত  হচ্ছেন। প্রতিদিন শতাধিক হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

জাহিদ হোসেন বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশকে ‘সকলের জন্য মানবিক বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে জাহিদ হাসেন বলেন,  হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে।

নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত এক বছরে জটিল রোগীদের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ বাজেটে তা বিভিন্ন জটিল রোগীসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য ৬০০ কোটি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পয়সার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, পয়সার জন্য শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন না। আমরা প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করছি, যাতে কেউ চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাচ্ছে। হৃদরোগ চিকিৎসাকে আধুনিক ও সুলভ করার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সুসজ্জিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত গাইড করছেন, এ দেশের অবহেলিত প্রতিটি মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে-গঞ্জে স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে এবং সারাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত  হচ্ছেন। প্রতিদিন শতাধিক হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

জাহিদ হোসেন বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশকে ‘সকলের জন্য মানবিক বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে জাহিদ হাসেন বলেন,  হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে।

নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত এক বছরে জটিল রোগীদের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ বাজেটে তা বিভিন্ন জটিল রোগীসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য ৬০০ কোটি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পয়সার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, পয়সার জন্য শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন না। আমরা প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করছি, যাতে কেউ চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাচ্ছে। হৃদরোগ চিকিৎসাকে আধুনিক ও সুলভ করার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সুসজ্জিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত গাইড করছেন, এ দেশের অবহেলিত প্রতিটি মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে-গঞ্জে স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে এবং সারাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।