ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

প্রশ্ন বিতরণে ভুল হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ২ বার

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v80), quality = 80?

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজিপ্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সাথে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এনটিআরসিএ’র মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ওভার-স্যাচুরেটেড (অতিরিক্ত) প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে আমি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের (রেগুলেশন) মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ এর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এছাড়া মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

প্রশ্ন বিতরণে ভুল হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজিপ্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সাথে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এনটিআরসিএ’র মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ওভার-স্যাচুরেটেড (অতিরিক্ত) প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে আমি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের (রেগুলেশন) মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ এর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এছাড়া মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।