ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ০ বার
সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের এমপির দাবি ঘিরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের এমপি মিজানুর রহমানের উত্থাপিত দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ কটাক্ষমূলক মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পার্থর বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সদস্যের জন্য ‘অসম্মানজনক’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে। বর্তমান সংসদের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো এখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সংসদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু জনপ্রতিনিধিই নন, সংসদেরও প্রতিনিধি। দেশের ভেতরে ও বাইরে তারা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দাবি’ শিরোনামের খবরের উল্লেখ করে বলেন, এমন সংবাদ তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত করেছে এবং সংসদের জন্যও অস্বস্তিকর।
পার্থ বলেন, জনগণের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার জায়গা সংসদ। সেখানে একজন সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার। সংসদে গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে এমপি পার্থ বলেন, যখন গাড়ি ও প্লটের মতো সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন কেন সংসদে দাঁড়িয়ে মাইক্রোওভেন বা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে আলোচনা করতে হবে? এ সময় কৌতুকের সুরে আন্দলিব রহমান পার্থ বলেন, যদি ভবিষ্যতে আমার ভাইয়ের মাইক্রোওভেন বা পর্দার প্রয়োজন হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, তিনি যেন একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে তাঁকেও পর্দার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করতাম। তাহলে আমরা মিলে তাঁর সংসার গুছিয়ে দিতে পারতাম।
সংসদে উপস্থিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে পার্থর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সংসদের দেওয়া আবাসিক ভবনে থাকা সব সদস্যের সুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, বিষয়টি সংসদে না বললেও হতো। তবে তিনি এমন কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য সংসদীয় কমিটি রয়েছে। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা এমন কোনো বড় সুবিধা নয় যে তা নিয়ে সংসদে বড় ধরনের বিতর্ক হওয়া উচিত। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
পার্থর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আপনি যেভাবে একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, সেটিও তাঁর জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। তিনি নিজের জন্য চাননি, সবার জন্য চেয়েছেন। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই।
এরপর স্পিকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত এমপি সংশ্লিষ্ট সদস্য সবার জন্য একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জানানো যেত। পার্থর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গাড়ি, প্লটসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, কিন্তু নিজেই আবার সবকিছু দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়ে দিলেন। অথচ কেউ তাঁর কাছে কিছু চাননি। তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত নয় যে এখানে দাঁড়িয়ে কারো সম্মানে আঘাত করা হবে। সংসদে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্ল্যাটগুলোর দরজা-জানালায় এখনো পর্দা লাগানো হয়নি। পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পিকারের সহায়তা কামনা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সংসদে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’
জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে সংসদ কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের অবসান ঘটল।
স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি ও মতামত তুলে ধরেছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ, সংসদকক্ষ ত্যাগ কিংবা নিজ আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও কীভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অতীতে বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। যাঁর যাঁর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান সংসদ কক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানান। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

আপডেট টাইম : ১০:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের এমপির দাবি ঘিরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের এমপি মিজানুর রহমানের উত্থাপিত দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ কটাক্ষমূলক মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পার্থর বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সদস্যের জন্য ‘অসম্মানজনক’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে। বর্তমান সংসদের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো এখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সংসদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু জনপ্রতিনিধিই নন, সংসদেরও প্রতিনিধি। দেশের ভেতরে ও বাইরে তারা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দাবি’ শিরোনামের খবরের উল্লেখ করে বলেন, এমন সংবাদ তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত করেছে এবং সংসদের জন্যও অস্বস্তিকর।
পার্থ বলেন, জনগণের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার জায়গা সংসদ। সেখানে একজন সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার। সংসদে গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে এমপি পার্থ বলেন, যখন গাড়ি ও প্লটের মতো সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন কেন সংসদে দাঁড়িয়ে মাইক্রোওভেন বা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে আলোচনা করতে হবে? এ সময় কৌতুকের সুরে আন্দলিব রহমান পার্থ বলেন, যদি ভবিষ্যতে আমার ভাইয়ের মাইক্রোওভেন বা পর্দার প্রয়োজন হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, তিনি যেন একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে তাঁকেও পর্দার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করতাম। তাহলে আমরা মিলে তাঁর সংসার গুছিয়ে দিতে পারতাম।
সংসদে উপস্থিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে পার্থর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সংসদের দেওয়া আবাসিক ভবনে থাকা সব সদস্যের সুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, বিষয়টি সংসদে না বললেও হতো। তবে তিনি এমন কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য সংসদীয় কমিটি রয়েছে। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা এমন কোনো বড় সুবিধা নয় যে তা নিয়ে সংসদে বড় ধরনের বিতর্ক হওয়া উচিত। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
পার্থর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আপনি যেভাবে একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, সেটিও তাঁর জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। তিনি নিজের জন্য চাননি, সবার জন্য চেয়েছেন। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই।
এরপর স্পিকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত এমপি সংশ্লিষ্ট সদস্য সবার জন্য একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জানানো যেত। পার্থর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গাড়ি, প্লটসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, কিন্তু নিজেই আবার সবকিছু দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়ে দিলেন। অথচ কেউ তাঁর কাছে কিছু চাননি। তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত নয় যে এখানে দাঁড়িয়ে কারো সম্মানে আঘাত করা হবে। সংসদে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্ল্যাটগুলোর দরজা-জানালায় এখনো পর্দা লাগানো হয়নি। পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পিকারের সহায়তা কামনা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সংসদে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’
জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে সংসদ কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের অবসান ঘটল।
স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি ও মতামত তুলে ধরেছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ, সংসদকক্ষ ত্যাগ কিংবা নিজ আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও কীভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অতীতে বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। যাঁর যাঁর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান সংসদ কক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানান। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।