ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ১২ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই দুই দেশের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে না।

বুধবার ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছি না।”

একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পিবিএস নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত হস্তান্তর করতে সম্মত হবে, তবে এর বিনিময়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের আনুমানিক ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে ধ্বংস করা হবে, অথবা ইরানের ভেতরেই তা ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক উপাদান হাতছাড়া করবে না।

১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনা চালালেও পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে।

ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘পরাজিত শত্রু’ হিসেবে চিত্রায়িত করে বলেন, “তারা চুক্তি করতে খুবই মরিয়া। তবে বর্তমান আলোচনার অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। হয় তারা আমাদের শর্ত মানবে, নতুবা আমাদের এই কাজ (সামরিক অ্যাকশন) পুরোপুরি শেষ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তিনি চিন্তিত নন এবং ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

এর আগে বুধবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (আইআরআইবি) একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক (MOU) প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের দায়িত্ব ওমান ও ইরানের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকবে।

তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, “ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবতার দিকে নজর দিন।” ট্রাম্প নিজেই স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না মার্কিন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরান ও ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে এর চরম প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে এখনো কাটেনি অচলাবস্থা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট টাইম : ১০:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই দুই দেশের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে না।

বুধবার ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছি না।”

একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পিবিএস নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত হস্তান্তর করতে সম্মত হবে, তবে এর বিনিময়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের আনুমানিক ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে ধ্বংস করা হবে, অথবা ইরানের ভেতরেই তা ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক উপাদান হাতছাড়া করবে না।

১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনা চালালেও পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে।

ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘পরাজিত শত্রু’ হিসেবে চিত্রায়িত করে বলেন, “তারা চুক্তি করতে খুবই মরিয়া। তবে বর্তমান আলোচনার অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। হয় তারা আমাদের শর্ত মানবে, নতুবা আমাদের এই কাজ (সামরিক অ্যাকশন) পুরোপুরি শেষ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তিনি চিন্তিত নন এবং ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

এর আগে বুধবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (আইআরআইবি) একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক (MOU) প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের দায়িত্ব ওমান ও ইরানের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকবে।

তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, “ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবতার দিকে নজর দিন।” ট্রাম্প নিজেই স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না মার্কিন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরান ও ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে এর চরম প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে এখনো কাটেনি অচলাবস্থা।