ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর নির্দেশে লেবাননে ইসরাইলের বর্বর বিমান হামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ১৩ বার

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই দাম্ভিকতাপূর্ণ নির্দেশনার পরপরই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ব্যাপক ও বর্বর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বিশেষ করে পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় এই ভয়াবহ বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। খবর বিবিসি ও বার্তা সংস্থাগুলোর।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় চরমপন্থী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে আমি হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার মাঝেই সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় উসকানি ও আগ্রাসন চালাচ্ছিল ইসরাইলি বাহিনী। এবার বেকা উপত্যকায় বড় ধরনের এই হামলার পর পরিস্থিতি আবারও পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভডিও বার্তায় নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরাইল ইতোমধ্যে ৬০০-এর বেশি প্রতিরোধ যোদ্ধাকে শহীদ করেছে। একই সাথে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে লেবাননের অভ্যন্তরে হামলার পরিধি আরও বিস্তার করা হবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা মূলত দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার তারা পূর্ব লেবাননের মুসলিম অধ্যুষিত বেকা উপত্যকাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেল আবিবের দাবি, ওইসব এলাকা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ইরান বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং নিরীহ মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তবে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের এই বর্বর ও আগ্রাসী সামরিক অভিযানে দেশটিতে ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন শহর ও গ্রামে বিমান হামলার কারণে এবং জোরপূর্বক ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মজলুম মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা এক চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর নির্দেশে লেবাননে ইসরাইলের বর্বর বিমান হামলা

আপডেট টাইম : ১২:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই দাম্ভিকতাপূর্ণ নির্দেশনার পরপরই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ব্যাপক ও বর্বর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বিশেষ করে পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় এই ভয়াবহ বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। খবর বিবিসি ও বার্তা সংস্থাগুলোর।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় চরমপন্থী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে আমি হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার মাঝেই সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় উসকানি ও আগ্রাসন চালাচ্ছিল ইসরাইলি বাহিনী। এবার বেকা উপত্যকায় বড় ধরনের এই হামলার পর পরিস্থিতি আবারও পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভডিও বার্তায় নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরাইল ইতোমধ্যে ৬০০-এর বেশি প্রতিরোধ যোদ্ধাকে শহীদ করেছে। একই সাথে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে লেবাননের অভ্যন্তরে হামলার পরিধি আরও বিস্তার করা হবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা মূলত দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার তারা পূর্ব লেবাননের মুসলিম অধ্যুষিত বেকা উপত্যকাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেল আবিবের দাবি, ওইসব এলাকা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ইরান বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং নিরীহ মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তবে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের এই বর্বর ও আগ্রাসী সামরিক অভিযানে দেশটিতে ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন শহর ও গ্রামে বিমান হামলার কারণে এবং জোরপূর্বক ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মজলুম মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা এক চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।