ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৮ বার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক ও জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা।

রোববার (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন উল্লেখ করে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে তার চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাকে স্মরণ করছি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কামনা করি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত।

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করার জন্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।

তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটা অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।’

মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তার চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র- নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার তা তুলনাহীন।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তার সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। বাংলা কাব্য-সংগীতে তার আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়ময় ও অভূতপূর্ব। মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে করে গেছেন আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত। নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটাতন। সত্যিকার অর্থেই তিনি জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার। আবার তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।

বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা উল্লেখ করে তারেক রহমান বাণীতে বলেন, তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১২:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক ও জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা।

রোববার (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন উল্লেখ করে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে তার চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাকে স্মরণ করছি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কামনা করি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত।

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করার জন্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।

তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটা অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।’

মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তার চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র- নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার তা তুলনাহীন।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তার সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। বাংলা কাব্য-সংগীতে তার আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়ময় ও অভূতপূর্ব। মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে করে গেছেন আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত। নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটাতন। সত্যিকার অর্থেই তিনি জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার। আবার তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।

বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা উল্লেখ করে তারেক রহমান বাণীতে বলেন, তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।