আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জনবল সংকটে ভুগছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। দেখা গেছে, সরকার পতনের পরপরই কমিশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ বিদেশে, কেউবা আত্মগোপনে চলে যান। এতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। অনেক ইউনিটে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে দায়িত্ব চালানো হচ্ছে।
এছাড়া কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তার ঘাটতিতে রয়েছে ডিএমপি। সব মিলিয়ে এখনো ২ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এতে পূর্ণ মাত্রায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি পুলিশ।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ৪ মে পর্যন্ত ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) থেকে ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার। বাকি সদস্যরা কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের। তবে ডিএমপিতে এখনো ২ হাজার ২৬২টি পদ শূন্য। এর মধ্যে সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পদ রয়েছে ৬২টি। পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যায়ের রয়েছে ২ হাজার ২০০টি। ফলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ইউনিটই হিমশিম খাচ্ছে। এতে সামগ্রিক কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমে (দক্ষিণ) প্রায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য থাকার কথা। সেখানে বর্তমানে পুলিশ সদস্য রয়েছেন ৯৮ জন। এতে কোনো কোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো নিয়ে কাজ করলেও সব অভিযোগ সমানভাবে দেখার সুযোগ থাকে না। এছাড়া ডিবির প্রতিটি বিভাগে বিভিন্ন ইউনিট থাকে। এসব ইউনিটের কোনো কোনো ইউনিটে সদস্যসংখ্যা কম রয়েছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের একটি থানার কর্মকর্তা বলেন, থানাগুলোতে জরুরি প্যাট্রোল টিমে পাঁচজন করে পুলিশ সদস্য থাকেন। কিন্তু কোনো কোনো থানায় এখন আরও কম রয়েছে। তবে নিজের থানায় কম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলতে চান না বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, বিভিন্ন ইউনিটে রদবদল এবং প্রয়োজনভিত্তিক পদায়নের কারণে কিছু পদে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে ডিএমপির কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সমন্বয় করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পদায়ন ও জনবল সমন্বয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ডিএমপি সদর দফতরের ইন্সপেকশন অ্যান্ড অডিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ইন্টেলিজেন্সের সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ প্রায় ১২ পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ডিএমপি সদর দফতরের অপারেশন ও ক্রাইম বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ একাধিক পদ এখনো শূন্য। এ ছাড়া ডিএমপির আটটি বিভাগে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা নেই।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আটটি বিভাগে কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার পদ এখনো ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) পদটি কয়েক মাস ধরে শূন্য। সেখানে বর্তমানে একজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে ডিবির উত্তরা বিভাগের ডিসি পদেও স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই।
রমনা বিভাগে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার পদ এখনো ফাঁকা। এ ছাড়া উত্তরা, ওয়ারী, মিরপুর বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার, ইন্সপেক্টর পদ শূন্য।
ডিএমপির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ক্রাইম প্রিভেনশন বিভাগে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট সিটিটিসির একটি ডিসি পদে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটেও ডিসি পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে আছেন একজন এডিসি।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় এখনো কনস্টেবলের সংকট রয়েছে। তবে আমরা সেটা ম্যানেজ করেই কাজ করছি।’
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন বলেন, বদলি বা পদায়ন একটা চলমান প্রক্রিয়া। সব ইউনিটেই রদবদল হচ্ছে। শিগগিরই যেসব ইউনিটে জনবল ঘাটতি রয়েছে সেগুলোতে পূরণ হয়ে যাবে।
Reporter Name 

























