ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

চামড়া খাত থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: শিল্পমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫৩ বার

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, চামড়া দেশের রপ্তানি খাতের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

শনিবার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলা পূর্ণ। ফলে শিল্পটি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিগত বছরগুলোতে এ খাত কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ দেশে সারা বছর যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়, তা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অতিরিক্ত বর্জ্যের চাপ মোকাবেলায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বর্তমান সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে প্রি-ট্রিটমেন্টের মান বজায় রেখে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে ঈদ মৌসুমে ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক বর্জ্য পরিশোধনের চাহিদা প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছে যায়। এতে সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ট্যানারি শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বাড়তি উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক ও কারিগরি সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি (অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় ইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তাও দেবে।

ট্যানারি শিল্পের পরিবেশগত সংকট নিরসনে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ট্যানারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

চামড়া খাত থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: শিল্পমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, চামড়া দেশের রপ্তানি খাতের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

শনিবার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলা পূর্ণ। ফলে শিল্পটি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিগত বছরগুলোতে এ খাত কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ দেশে সারা বছর যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়, তা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অতিরিক্ত বর্জ্যের চাপ মোকাবেলায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বর্তমান সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে প্রি-ট্রিটমেন্টের মান বজায় রেখে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে ঈদ মৌসুমে ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক বর্জ্য পরিশোধনের চাহিদা প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছে যায়। এতে সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ট্যানারি শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বাড়তি উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক ও কারিগরি সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি (অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় ইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তাও দেবে।

ট্যানারি শিল্পের পরিবেশগত সংকট নিরসনে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ট্যানারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।