ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

চীন বেইজিং পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ২৩ বার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৩ মে) চীনের বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় ইরান যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেব্তৃদ্বয়ের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
ওয়াশিংটন ত্যাগের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে চীনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল হতে চান না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের বিষয়ে তাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াইয়ে জয়ী হবে। তা সত্ত্বেও তিনি শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, চীন এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে ভালো ভূমিকা পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়টি হবে তার আলোচনার প্রথম দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সফরে তার সঙ্গে একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, টেসলার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের সিইও টিম কুক।
মূলত এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের শক্তিশালী এআই চিপ বিক্রির অনুমতি পেতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর বিপরীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, বেইজিং সহযোগিতা বাড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য দূর করে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত।
এই সফরের কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ হবে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা এবং বিশেষ চা চক্রের আয়োজনও রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি দুই নেতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রাম্পের এই চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্যিক সম্পর্ক মেরামত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে কোনো সমঝোতা আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এই পদার্পণ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএ
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

চীন বেইজিং পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট টাইম : ১২:৪০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৩ মে) চীনের বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় ইরান যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেব্তৃদ্বয়ের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
ওয়াশিংটন ত্যাগের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে চীনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল হতে চান না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের বিষয়ে তাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াইয়ে জয়ী হবে। তা সত্ত্বেও তিনি শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, চীন এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে ভালো ভূমিকা পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়টি হবে তার আলোচনার প্রথম দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সফরে তার সঙ্গে একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, টেসলার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের সিইও টিম কুক।
মূলত এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের শক্তিশালী এআই চিপ বিক্রির অনুমতি পেতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর বিপরীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, বেইজিং সহযোগিতা বাড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য দূর করে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত।
এই সফরের কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ হবে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা এবং বিশেষ চা চক্রের আয়োজনও রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি দুই নেতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রাম্পের এই চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্যিক সম্পর্ক মেরামত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে কোনো সমঝোতা আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এই পদার্পণ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএ