ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিলের পানিতে ডুবে ভাই-বোন নিহত এমন রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না, যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আলেমদের সমাজ পরিবর্তনের প্রধান রূপকার হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুত ৭ ভেন্যু সরাসরি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান, বাংলাদেশের ভাগ্য সেই ভারতের হাতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত চিকিৎসক সমাজের পেশাগত উৎকর্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ড্যাব : জুবাইদা রহমান জেআইসিতে এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
  • ৫৩৬ বার

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজরের মতো। সারাদেশের বেশিরভাগ জেলায় এরই মধ্যে শত্রুসেনারা বিতারিত হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বিমান আক্রমনের কারণেদেশের বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করলেও তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ বা ঢাকায় নিয়ে আসা দূরহ হয়ে পড়ে।

উত্তরে ময়মনসিংহ থেকে পাকিস্তানের ৯৩ এ্যাড-হক বিগ্রেড ঢাকা আসার সময়ে প্রথমে কাদের সিদ্দিকী পরিচালিত মুক্তিযোদ্ধা এবং পরে ভারতীয় প্যারাসুট ব্যাটেলিয়ন আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ১১ ডিসেম্বর বিকালবেলা ভারতের প্যারাসুট বাহিনীর মাত্র ৭০০জন সৈন্য কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী অধ্যুষিত মধুপুর এলাকায় অবতরণ করে এবং পাকিস্তানী ব্রিগ্রেডের পশ্চাৎবর্তী ইউনিটতে আক্রমণ করে।

পশ্চাদপসরণে ব্যস্ত পাকিস্তানী বাহিনীর লক্ষ্যস্থল ছিল দক্ষিণের দিকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চল। উপকূল থেকে জাহাজযোগে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন দেশীয় পতাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাবার চেষ্টা করে পাকিস্তানী বাহিনী।

এদিকে সেক্টর কমান্ডার মেজর হায়দারের নির্দেশে পূর্বাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা অাক্রমণের চুড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ইছাপুরা, নগরপাড়া, শেখের টেক, নন্দীপাড়া, মাদারটেক অঞ্চলেই ক্যাম্প করে মুক্তিযোদ্ধারা। এসব ক্যাম্পের মধ্যে গাজী গোলাম দস্তগীরের গ্রুপ, মায়া গ্রুপ, নজির গ্রুপ, লেয়াকত গ্রুপ, বাকি গ্রুপ অবস্থান নেয়। সবারই টার্গেট ছিল ঢাকা।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ত্রিমোহনীতে পাকিস্তানি আর্মি অবস্থান নিয়েছিল। ত্রিমোহনী ছিল তিনটি খালের মোহনা। ওই জায়গা দিয়ে আশপাশের সব জায়গায় যাওয়া যেত। খবর পেয়ে ১১ ডিসেম্বর সকালবেলা মুক্তিযোদ্ধারা ত্রিমোহিনী আক্রমণ করে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় যুদ্ধ চলে। ওই দিন সেখানে ১৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়্। সন্ধ্যার দিকে ত্রিমোহনীতে অবস্থানরত এক কোম্পানি পাকিস্তানি সৈন্যদল পিছু হটে। মুক্তিযোদ্ধারা জায়গাটির দখল নিয়ে নেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলের পানিতে ডুবে ভাই-বোন নিহত

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর

আপডেট টাইম : ০১:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজরের মতো। সারাদেশের বেশিরভাগ জেলায় এরই মধ্যে শত্রুসেনারা বিতারিত হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বিমান আক্রমনের কারণেদেশের বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করলেও তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ বা ঢাকায় নিয়ে আসা দূরহ হয়ে পড়ে।

উত্তরে ময়মনসিংহ থেকে পাকিস্তানের ৯৩ এ্যাড-হক বিগ্রেড ঢাকা আসার সময়ে প্রথমে কাদের সিদ্দিকী পরিচালিত মুক্তিযোদ্ধা এবং পরে ভারতীয় প্যারাসুট ব্যাটেলিয়ন আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ১১ ডিসেম্বর বিকালবেলা ভারতের প্যারাসুট বাহিনীর মাত্র ৭০০জন সৈন্য কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী অধ্যুষিত মধুপুর এলাকায় অবতরণ করে এবং পাকিস্তানী ব্রিগ্রেডের পশ্চাৎবর্তী ইউনিটতে আক্রমণ করে।

পশ্চাদপসরণে ব্যস্ত পাকিস্তানী বাহিনীর লক্ষ্যস্থল ছিল দক্ষিণের দিকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চল। উপকূল থেকে জাহাজযোগে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন দেশীয় পতাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাবার চেষ্টা করে পাকিস্তানী বাহিনী।

এদিকে সেক্টর কমান্ডার মেজর হায়দারের নির্দেশে পূর্বাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা অাক্রমণের চুড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ইছাপুরা, নগরপাড়া, শেখের টেক, নন্দীপাড়া, মাদারটেক অঞ্চলেই ক্যাম্প করে মুক্তিযোদ্ধারা। এসব ক্যাম্পের মধ্যে গাজী গোলাম দস্তগীরের গ্রুপ, মায়া গ্রুপ, নজির গ্রুপ, লেয়াকত গ্রুপ, বাকি গ্রুপ অবস্থান নেয়। সবারই টার্গেট ছিল ঢাকা।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ত্রিমোহনীতে পাকিস্তানি আর্মি অবস্থান নিয়েছিল। ত্রিমোহনী ছিল তিনটি খালের মোহনা। ওই জায়গা দিয়ে আশপাশের সব জায়গায় যাওয়া যেত। খবর পেয়ে ১১ ডিসেম্বর সকালবেলা মুক্তিযোদ্ধারা ত্রিমোহিনী আক্রমণ করে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় যুদ্ধ চলে। ওই দিন সেখানে ১৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়্। সন্ধ্যার দিকে ত্রিমোহনীতে অবস্থানরত এক কোম্পানি পাকিস্তানি সৈন্যদল পিছু হটে। মুক্তিযোদ্ধারা জায়গাটির দখল নিয়ে নেয়।