ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১ বার

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। এজন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বাড়ানো নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়তে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেকের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা। এর ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে হয় ১৪ হাজার টাকার মতো। আর ৬০ শতাংশ করলে ১২-১৩ হাজার মূল বেতন হয়। তবে পে-কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হলে সেটি কমিশনের সুপারিশের সাথে সামঞ্জস্য হবে না।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে যতগুলো পে-স্কেল হয়েছে সবগুলোতেই নিচের দিকের গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেসিক যদি ১৬ হাজার বা ১৭ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটি এমনিতেই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে যাবে। আমরা আশা করবো সরকার পে-কমিশনের সুপারিশের ন্যূনতম বেতনের বিষয়টি বহাল রাখবে।’

আব্দুল মালেক বলেন, ‘২০১৫ সালে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা করা হয়। ২০২০ সালে পে-স্কেল হলে কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ১৬৫০০ টাকা হত; ২০২৫ সালে আমাদের আরেকটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। এই দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৩৩০০ হাজার টাকা হত। সেজন্য আমরা সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিলাম।’

তার মতে, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে-কমিশন পুলিশ, সেনাবাহিনী, শিক্ষকসহ ২০০টি সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। তারা সব সংগঠনের সুপারিশগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এরপর সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন স্কেল ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। সেখানে যদি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সেটি আমাদের কোনো কাজে আসবে না। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশই বহাল রাখবে বর্তমান সরকার।’

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে গঠিত পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এটি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী হবে না। কমিশন মূল বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছে সেটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ করার পর যে অর্থ হয়, সেই অর্থের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সূত্রটি।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে বাকি অংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়ছে

আপডেট টাইম : ১১:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। এজন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বাড়ানো নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়তে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেকের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা। এর ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে হয় ১৪ হাজার টাকার মতো। আর ৬০ শতাংশ করলে ১২-১৩ হাজার মূল বেতন হয়। তবে পে-কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হলে সেটি কমিশনের সুপারিশের সাথে সামঞ্জস্য হবে না।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে যতগুলো পে-স্কেল হয়েছে সবগুলোতেই নিচের দিকের গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেসিক যদি ১৬ হাজার বা ১৭ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটি এমনিতেই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে যাবে। আমরা আশা করবো সরকার পে-কমিশনের সুপারিশের ন্যূনতম বেতনের বিষয়টি বহাল রাখবে।’

আব্দুল মালেক বলেন, ‘২০১৫ সালে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা করা হয়। ২০২০ সালে পে-স্কেল হলে কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ১৬৫০০ টাকা হত; ২০২৫ সালে আমাদের আরেকটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। এই দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৩৩০০ হাজার টাকা হত। সেজন্য আমরা সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিলাম।’

তার মতে, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে-কমিশন পুলিশ, সেনাবাহিনী, শিক্ষকসহ ২০০টি সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। তারা সব সংগঠনের সুপারিশগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এরপর সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন স্কেল ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। সেখানে যদি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সেটি আমাদের কোনো কাজে আসবে না। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশই বহাল রাখবে বর্তমান সরকার।’

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে গঠিত পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এটি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী হবে না। কমিশন মূল বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছে সেটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ করার পর যে অর্থ হয়, সেই অর্থের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সূত্রটি।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে বাকি অংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতা।