ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাহিদ-সারজিসরা জুলাইকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১ বার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পুঁজি করে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমরা নিজেদের আখের গুছিয়ে বড় নেতা এবং এমপি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ আয়োজিত

‘শহীদদের হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ও আহতদের পূনর্বাসনের’ দাবিতে  আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা মো. আবুল হাসান অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের কাছে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, তারা আমাদের কোনো দাবিই মানেননি। তারা মাত্র ৫-৭ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছেন এবং শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা জুলাইকে নিজের বাপ-দাদার সম্পদ হিসেবে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো তা হতে দেবে না।

সভায় শহীদ ইমাম হোসেন তাহেরের ভাই ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম তুহিন বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার আমাদের শুধু ব্যবহার করেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় শহীদ ও আহতদের জন্য ‘সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে। তিনি আগামী ৫ই আগস্টের আগে শহীদদের গেজেট প্রকাশ, কবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। সরকার ইতোমধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসে সারা দেশের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে নিয়ে একটি বিশাল সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঈমন নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, যারা শরীরের হাজারো বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি, আমাদের জীবন আজ ‘জীবন্ত মৃত’ মানুষের মতো। বিগত ১৫ মাস শাহবাগে আমাদের অধিকারের কথা কেউ শোনেনি এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসনের জোর দাবি জানানো হয়। সভায় শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী মো. নাবিল হোসেনসহ আরও অনেক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

নাহিদ-সারজিসরা জুলাইকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে

আপডেট টাইম : ১১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পুঁজি করে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমরা নিজেদের আখের গুছিয়ে বড় নেতা এবং এমপি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ আয়োজিত

‘শহীদদের হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ও আহতদের পূনর্বাসনের’ দাবিতে  আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা মো. আবুল হাসান অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের কাছে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, তারা আমাদের কোনো দাবিই মানেননি। তারা মাত্র ৫-৭ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছেন এবং শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা জুলাইকে নিজের বাপ-দাদার সম্পদ হিসেবে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো তা হতে দেবে না।

সভায় শহীদ ইমাম হোসেন তাহেরের ভাই ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম তুহিন বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার আমাদের শুধু ব্যবহার করেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় শহীদ ও আহতদের জন্য ‘সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে। তিনি আগামী ৫ই আগস্টের আগে শহীদদের গেজেট প্রকাশ, কবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। সরকার ইতোমধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসে সারা দেশের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে নিয়ে একটি বিশাল সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঈমন নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, যারা শরীরের হাজারো বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি, আমাদের জীবন আজ ‘জীবন্ত মৃত’ মানুষের মতো। বিগত ১৫ মাস শাহবাগে আমাদের অধিকারের কথা কেউ শোনেনি এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসনের জোর দাবি জানানো হয়। সভায় শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী মো. নাবিল হোসেনসহ আরও অনেক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।