টানা অতিবৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ আজ কার্যত পানির নিচে। হাওরঞ্চল কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। মাঠের পর মাঠ সোনালি ফসল এখন পানির নিচে ডুবে আছে—নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঘামঝরা স্বপ্ন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকস্মিক এই অতিবৃষ্টিতে পাকা ধান কাটার আগেই ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। কোথাও শ্রমিক সংকটে ধান কাটাই সম্ভব হচ্ছে না, আবার কোথাও কাটা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
একাধিক কৃষক জানান, “সারাবছর পরিশ্রম করে যে ফসল ফলাইছি, তা চোখের সামনে পানিতে ডুবে যাচ্ছে। না খেয়ে, না ঘুমিয়ে দিন কাটতেছে—কিন্তু কিছুই করার নাই।” অনেক এলাকায় কৃষক পরিবারগুলো খাদ্য সংকটের শঙ্কায় দিন গুনছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও জরুরি সহায়তা না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে সরকারি সহায়তা, কৃষি ঋণ পুনঃতফসিল এবং খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই দুর্যোগ শুধু ফসল নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
প্রকৃতির এই নির্মম রূপে দিশেহারা মানুষ এখন একটাই প্রার্থনা করছেন—
Reporter Name 





















