মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
হাওরের কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে যে বৃষ্টি হচ্ছে, শিলাবৃষ্টি হচ্ছে— এতে হাওর অঞ্চলের সমস্ত ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। সেখানে একটিমাত্র ফসল হয়। ১২ মাস এই অঞ্চলের কৃষকদের তাদের পেটের ভাত ও পরনের কাপড়ের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে।‘
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের নেতা, সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি— হাওর অঞ্চলকে দয়া করে এবার বাঁচান। হাওর অঞ্চলকে সঠিকভাবে বাঁচাতে হলে ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি হাওর মন্ত্রণালয় করতে হবে।‘
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই সরকারের হাত ধরেই দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য দূর হবে।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এক নয়। হিমালয় পর্বতের সঙ্গে টিলার যেমন তুলনা হয় না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করাও অন্যায়।‘
ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের যোদ্ধাদের আমি ছোট করে দেখছি না। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আমি নিজেও এই আন্দোলনে ছিলাম। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমার যুদ্ধ চলবে বলেছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে আগস্ট কোনো বিপ্লব নয়, এটি হলো গণঅভ্যুত্থান। সেই গণঅভ্যুত্থানকে যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তুলনা করতে চায়, আমি বলব এটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ মহাসমুদ্রের চেয়েও গভীর।‘
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম একদিনে হয়নি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ১৯৭১ সনে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।‘
সংসদে স্বাধীনতাবিরোধীদের উদ্দেশ্য করে এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে— ততদিন মুক্তিযোদ্ধারা জিতবে, রাজাকাররা কোনোদিন এদেশে জয়লাভ করতে পারবে না।‘
৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা লুট ও পুলিশ হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরের ঘটনাগুলো কোনোভাবেই আইনি ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) পাওয়ার কথা নয়।‘
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, সেটা ৫ আগস্ট পর্যন্ত এক রকম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর এত থানা লুট হলো, এত পুলিশকে হত্যা করা হলো— তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘যদি ৫ আগস্টের পর কোনো পুলিশ খুন হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, অস্ত্র লুট হয়ে থাকে— সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, সেটার বিচার হওয়া উচিত।’
পুলিশ সদস্যদেরও মানবাধিকার রয়েছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে পুলিশ যা করেছে, তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে করেছে, তারা যদি অন্যায় করে থাকে তার বিচার হোক। কিন্তু আমি মনে করি তারাও এদেশের নাগরিক, তাদেরও পরিবার আছে, তাদের সন্তানরাও এতিম হয়েছে। অন্তত রাষ্ট্রের তাদের কাছে গিয়ে বলা উচিত যে, তোমাদের সন্তান যেভাবেই নিহত হয়ে থাক, আমরা তোমাদের দেখব।’
Reporter Name 






















