স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম: নিম্নমানের পচা খাবারে অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা’ শিরোনামে রোববার (২৬ এপ্রিল) যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। এরপরই তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তদন্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি জানান, স্কুল ফিডিংয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল। তবে যুগান্তরের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে ডেকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। রোববারই সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সারাদিন সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর ডিসিদের ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যের মান যাচাইয়ের জন্য সিভিল সার্জনের কাছ থেকেও প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না—এ মর্মে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারীর বিরুদ্ধেও দ্রুত শোকজ নোটিশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তদন্তে খাদ্যের কোনো ত্রুটি বা বিষাক্ততা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু প্রকল্প পরিচালক নয়, খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করা হবে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হবে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, লিখিত অভিযোগ বা রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 
























