‘পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে সহনশীল। প্রশ্নপত্রে কোনো দুর্বোধ্যতা থাকলে কক্ষ পরিদর্শকরা তা বুঝতে সহায়তা করবেন। পরীক্ষার্থীবান্ধব কেন্দ্র উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করা হবে। তারা বিনা টেনশনে হাসিমুখে কেন্দ্রে আসবে, আবার হাসিমুখেই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরবে।’
কথাগুলো জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের নানা উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে এমন পরীক্ষার্থীবান্ধব কেন্দ্র উপহার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কিন্তু পরক্ষণেই নকল, অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস রুখতে জিরো টলারেন্স-নীতির কথাও জানান জোরালো কণ্ঠে।
মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘নকল করতে দেবো না। নকলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আমরা সাইবার নজরদারি করবো। অনিয়ম, অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ নেই। যা পড়েছো, বুঝেছো; তাই লিখবে। মেধা অনুযায়ী শতভাগ নিরপেক্ষভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন হবে। তুমি যা লিখেছো, সেটুকু নম্বর পাবে।’
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা ঘিরে নানা হুঁশিয়ারি; বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য-বিবৃতিতে অনৈতিক সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। একই রকম মতামত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কেউ কেউ বলছেন, পরীক্ষার আগে নকল-অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে এত বেশি ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যে পরীক্ষার্থীরা ট্রমায় ভুগছে। পরীক্ষাকেন্দ্রিক শাস্তি ও ভয়ের বিষয়গুলো বারবার শিক্ষার্থীদের মানসপটে গেঁথে দেওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে অভিযোগ তাদের।
আবার আরেকটি পক্ষ বলছে, অনিয়ম ও অসদুপায় অবলম্বন না করলে এসব হুমকি-হুঁশিয়ারিতে ভয়ের কিছু নেই। শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী পরীক্ষা দেবে। অনিয়ম করবে না। তাহলে যে নম্বর সে পাবে, সেটি নিয়েও ভবিষ্যতে ভালো করতে পারবে। পাশাপাশি নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন
শুধু নকল নয়, পরীক্ষার কক্ষে এদিক-ওদিক তাকালেও বহিষ্কার করা হবে। এমন আরও ১৯টি কারণে বহিষ্কার, জেলসহ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে এসএসসি পরীক্ষায়। এ নিয়ম এবারই হয়েছে এমন নয়। কিন্তু এবার বিষয়গুলো বেশি আলোচিত হওয়ায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।
রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সেঁজুতি আক্তার। তার বাবা আইনজীবী আক্তার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স গড়ে ১৫-১৬ বছর। বয়সে তারা এখনো শিশু। ওদের জন্য যত নিয়ম, শাস্তির কথা প্রচার করা হচ্ছে; এটা দেখলে ওরাও ভয় পাচ্ছে, আমরাও উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আগের মেয়াদে নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করেছেন। তাতে আমরা খুশি। এখন কিন্তু এত নকল হয় না। কিন্তু নকলের সংজ্ঞায় ফেলে অনেক কারণে বহিষ্কার করা যায়। সেটার মধ্যে ওদের ফেলা দেওয়া হয় কি না, তা নিয়ে ভয়ে আছে ওরা। আমার মেয়েটাও গত কয়েকদিন ধরে এটা বলছে। ও বলছে, বাবা আমার খাতা কেউ দেখে লিখলে আমাকেও শাস্তি দেবে নাকি। এটা কেমন নিয়ম! এগুলোতে ট্রমাটাইজ হয়ে যাচ্ছে ও।’
সম্প্রতি একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক তাহসিনা পারভীন বলেন, ‘নকল করলে বা অসদুপায় অবলম্বনে শাস্তি দেন সমস্যা নেই। কিন্তু যেভাবে উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছেন মন্ত্রীসহ অন্যরা, এতেই তো বাচ্চারা ভয় পেয়ে যাবে। ভয়ে যা পড়েছে, তাও ভুলে যাবে। আপনারা রহম করেন, বাচ্চাদের ওপর আর মানসিক চাপ দিয়েন না।’
‘সচেতনতায় ট্রমা নয়, নৈতিক ভিত্তি শক্ত হয়’
শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উদ্বেগ জানালেও ভিন্নমত জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্যবিদরা। ‘সচেতনতায় ট্রমা নয়, নৈতিক ভিত্তি শক্ত হয়’ বলে মনে করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত।
ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপরাধের শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াটা নেতিবাচক নয় বলে আমি মনে করি। আগে থেকে কাউকে বলা হচ্ছে যে এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে না, অনৈতিক। এটা বরং ইতিবাচক দিক। সচেতনতার জন্য কিছু বারবার জানালে তাতে কেউ ট্রমাটাইজ হয় না, হবেও না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ভিত্তি শক্ত হবে। জবাবদিহি ও মূল্যবোধ বাড়বে। অনুশোচনা বোধ কাজ করবে। তারা ভুল পথে পা বাড়াবে না।’
‘শিক্ষার জগতে পরীক্ষাই সব নয়’
শিক্ষার উদ্দেশ্য শেখা। এখানে পরীক্ষাই সব নয় বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ। এ শিক্ষাবিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটা এমন যে, পরীক্ষাই যেন এখানে সব। যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বেশি ভালো করেনি, তাকে দিয়ে যেন কিছুই হবে না—এমন চিন্তাভাবনা জেঁকে বসেছে আমাদের মননে। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শেখা, আনন্দের সঙ্গে শেখা। শেখা জিনিসটি দেশ, জাতি তথা বিশ্বের মানবজাতির জন্য প্রয়োগ করা। কিন্তু আমরা উল্টোপথে, মানে পরীক্ষানির্ভর।’
পরীক্ষা ঘিরে শাস্তির হুঁশিয়ারি অতি বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়বে, শিখবে। পড়া ও শেখার মধ্যদিয়ে তারা বেড়ে উঠবে। তাদের শেখা বিষয়গুলো কর্মজীবনে কাজে লাগবে। কিন্তু আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি ঘনঘন। সেই পরীক্ষায় আবার গাদাগাদা শাস্তির কথা বলছি। ঘাড় ঘোরালে শাস্তি, এদিক-ওদিক নজর দিলে শাস্তি, এমনকি নীরব শাস্তিও ছিল। এতএত শাস্তির ভিড়ে ওদের কৈশোর হারিয়ে যাচ্ছে, মুখস্থ করছে; খাতা উগরে দিয়ে আসবে। কাউকে পাস, কাউকে ফেল দেখানো হবে। পুরো এ পদ্ধতিই ভুল। ঢেলে সাজানোর উদ্যোগও দেখি না, যা খুব জরুরি।
পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৮ লাখ, প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপত্র
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।
অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথমদিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথমদিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হবে।
এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। তার মধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
শিক্ষার মান উন্নয়ন ও পরীক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা হ্রাস করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন/ফাইল ছবি
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী চার লাখের বেশি। তাদের মধ্যে এক বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। বাকিরা দুই, তিন, চার বা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সারাদেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
নকল-অনিযম রুখতে যত উদ্যোগ
এবার পরীক্ষার হলে নকলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। এর আওতায় ১৯টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের তালিকা করে শাস্তিকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম স্তর: পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, ডেস্কে বা পোশাকে কোনো কিছু লেখা থাকা, ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখলে এ বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
দ্বিতীয় স্তর: যদি কোনো পরীক্ষার্থী প্রশ্ন বা উত্তরপত্র হলের বাইরে পাচার করে, কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে হুমকি প্রদান করে কিংবা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করে, তবে তার ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।
তৃতীয় স্তর: অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া (প্রক্সি), রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা, উত্তরপত্র বিনিময় করা এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ কিংবা অস্ত্রের প্রদর্শন করার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সরাসরি দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে এসব গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে।
পাশাপাশি পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা অসদুপায় রোধে এবার বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে ‘ভিজিল্যান্স টিম’। ডিজিটাল নজরদারি এড়ানোর সব পথ বন্ধ করতে এই টিমকে যে কোনো সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান চালানোর পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা শনাক্ত হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষক-পরীক্ষার্থীসহ প্রত্যেককে বোর্ডের সব নীতিমালা মেনে চলতে হবে। সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনে আমরা ভিজিল্যান্স টিমসহ মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকছি। অসদুপায় অবলম্বনে ছাড় দেওয়া হবে।’
আসন বিন্যাসে কড়াকড়ি, ৫-৬ ফুটের বেঞ্চে বসবে দুজন
পরীক্ষার হলে নকলমুক্ত পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আসন বিন্যাসেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। একই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরস্পরের কাছাকাছি আসন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবে না। এছাড়া পরীক্ষার হলে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে কক্ষ পরিদর্শক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও স্বচ্ছতা ফেরাতে তোড়জোড়
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ব্যবহারিক অংশে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। বিগত বছরগুলোতে ব্যবহারিক পরীক্ষায় শৈথিল্য প্রদর্শন বা ‘গড়পড়তা’ নম্বর দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা বন্ধ করতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েই নম্বর অর্জন করতে হবে।
কেন্দ্রসচিবদের জানানো হয়েছে, তাত্ত্বিক পরীক্ষা যে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে, ব্যবহারিক পরীক্ষাও সেই কেন্দ্রেই নিতে হবে। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক নিয়োগে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। কোনোভাবেই নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বহিরাগত পরীক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ ডাকযোগে না পাঠিয়ে সরাসরি বোর্ডে এসে হাতে হাতে জমা দিতে হবে।
Reporter Name 
























