ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

কৃষিঋণ মওকুফের সুফল পেয়েছেন আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ সদস্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় এসেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)’র ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য।

সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত এই বিপুলসংখ্যক সদস্যের ঋণের দায়ভার লাঘব হওয়ায় বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরেছে।

রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেন।

তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি) বা গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারাদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে অল্পসংখ্যক সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। তাদের প্রায় ৯৮ শতাংশই সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধায় আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ জন্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী। এ বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য সরকারি কর্মে নিয়োজিত নন। কেবল কিছু সদস্য যেমন- বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার সরকারি চাকরি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু আনসার সদস্য সরকারি চাকরি করেন এবং বেতন-ভাতা পান। তবে ভিডিপির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী (ভলান্টিয়ারি) হিসেবে কাজ করেন। তারা নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু সেই সময়ের জন্যই দৈনিক ভাতা পান। বছরের বাকি সময় তাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন।’

মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য সমাজের নিম্ন আয়ের স্তরে বাস করেন।

তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তাকারী দরিদ্র আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই ব্যাংকের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঋণ বিনা জামানতে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্যকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক, খেলাপি নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, সদস্যদের এক, দুই ও সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। সদস্যরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারাদেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এতে ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮শ’র বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উন্নয়নে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের শাখা বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিগগিরই এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে। সূত্র : বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

কৃষিঋণ মওকুফের সুফল পেয়েছেন আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ সদস্য

আপডেট টাইম : ১১:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় এসেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)’র ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য।

সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত এই বিপুলসংখ্যক সদস্যের ঋণের দায়ভার লাঘব হওয়ায় বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরেছে।

রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেন।

তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি) বা গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারাদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে অল্পসংখ্যক সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। তাদের প্রায় ৯৮ শতাংশই সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধায় আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ জন্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী। এ বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য সরকারি কর্মে নিয়োজিত নন। কেবল কিছু সদস্য যেমন- বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার সরকারি চাকরি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু আনসার সদস্য সরকারি চাকরি করেন এবং বেতন-ভাতা পান। তবে ভিডিপির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী (ভলান্টিয়ারি) হিসেবে কাজ করেন। তারা নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু সেই সময়ের জন্যই দৈনিক ভাতা পান। বছরের বাকি সময় তাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন।’

মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য সমাজের নিম্ন আয়ের স্তরে বাস করেন।

তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তাকারী দরিদ্র আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই ব্যাংকের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঋণ বিনা জামানতে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্যকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক, খেলাপি নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, সদস্যদের এক, দুই ও সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। সদস্যরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারাদেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এতে ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮শ’র বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উন্নয়নে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের শাখা বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিগগিরই এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে। সূত্র : বাসস