ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ আ.লীগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৬
  • ৩৩২ বার

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনকালীন সময়ের প্রশাসনের রদবদল নিয়ে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছেন।

এছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতিও তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের যেকোনো দিন চা-চক্রের মাধমে সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি যেসব দাবি উত্থাপন করেছে সেগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই মেনে নেবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী পূর্বপশ্চিমকে বলেন, বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। মানুষ হত্যা ও পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করে। আর দলটি কখনো নির্বাচন চায় না। মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও ষড়যন্ত্র করা ছাড়া দলটির কোনো কাজ নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। এখানে ফর্মুলা দেয়ার বিএনপি কেউ না।

দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, যথা সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। এতদিন বিএনপির পক্ষ থেকে আগাম অথবা মধ্যবর্তী নির্বাচন চাওয়া হলেও সেই দাবি থেকে দলটি সরে এসেছে। এটা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারে না। দাবি পূরণ না হওয়ায় বিএনপি এখন সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যেতে চায়। এ নির্বাচনে এলে তারা কোনোভাবেই জিততে পারবে না বলে নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চায়। তাদের সে দাবি কখনো পূরণ হবার নয়। দেশের মানুষ এখনো ভুলেনি, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজের সময় বিএনপি ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকাভূক্ত করেছিল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ পূর্বপশ্চিমকে বলেন, বিএনপি কেন নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা দেবে? এ অধিকার তাদের নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তারা করেছিল, তার খেসারত দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন কাজ ভবিষ্যতেও তারা করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিএনপির এ অপচেষ্টাকে কখনো সফল হতে দেবে না। রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চাইবেন, সেভাবেই হবে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিদের সাথে নিয়ে বিএনপি যে আবারো দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়, সেটা জনগণের সামনে পরিষ্কার। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ উন্নয়নের কারণে আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে বলে বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি রূপরেখা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য আলাদা সময়ও চেয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার ১১ সদস্যের একটি দল বঙ্গভবনে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার আবেদন জমা দিয়ে আসে।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে সার্চ কমিটি গঠন করে সাবেক আমলা, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষ। আগামী এক মাসের মধ্যেই তা উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। নতুন নির্বাচন কমিশনার কারা হবেন, সেটি নির্ধারনের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। এখানে সংসদের বাইরে থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের ফর্মুলা দেওয়ার কিছু নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ আ.লীগ

আপডেট টাইম : ১২:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৬

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনকালীন সময়ের প্রশাসনের রদবদল নিয়ে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছেন।

এছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতিও তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের যেকোনো দিন চা-চক্রের মাধমে সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি যেসব দাবি উত্থাপন করেছে সেগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই মেনে নেবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী পূর্বপশ্চিমকে বলেন, বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। মানুষ হত্যা ও পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করে। আর দলটি কখনো নির্বাচন চায় না। মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও ষড়যন্ত্র করা ছাড়া দলটির কোনো কাজ নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। এখানে ফর্মুলা দেয়ার বিএনপি কেউ না।

দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, যথা সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। এতদিন বিএনপির পক্ষ থেকে আগাম অথবা মধ্যবর্তী নির্বাচন চাওয়া হলেও সেই দাবি থেকে দলটি সরে এসেছে। এটা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারে না। দাবি পূরণ না হওয়ায় বিএনপি এখন সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যেতে চায়। এ নির্বাচনে এলে তারা কোনোভাবেই জিততে পারবে না বলে নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চায়। তাদের সে দাবি কখনো পূরণ হবার নয়। দেশের মানুষ এখনো ভুলেনি, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজের সময় বিএনপি ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকাভূক্ত করেছিল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ পূর্বপশ্চিমকে বলেন, বিএনপি কেন নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা দেবে? এ অধিকার তাদের নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তারা করেছিল, তার খেসারত দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন কাজ ভবিষ্যতেও তারা করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিএনপির এ অপচেষ্টাকে কখনো সফল হতে দেবে না। রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চাইবেন, সেভাবেই হবে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিদের সাথে নিয়ে বিএনপি যে আবারো দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়, সেটা জনগণের সামনে পরিষ্কার। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ উন্নয়নের কারণে আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে বলে বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি রূপরেখা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য আলাদা সময়ও চেয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার ১১ সদস্যের একটি দল বঙ্গভবনে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার আবেদন জমা দিয়ে আসে।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে সার্চ কমিটি গঠন করে সাবেক আমলা, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষ। আগামী এক মাসের মধ্যেই তা উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। নতুন নির্বাচন কমিশনার কারা হবেন, সেটি নির্ধারনের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। এখানে সংসদের বাইরে থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের ফর্মুলা দেওয়ার কিছু নেই।