আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ বাগিয়েছিলেন সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ। তাতে নগ্ন হস্তক্ষেপ ছিল উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের।
যোগদানের শুরু থেকেই দুর্নীতিতে গা জড়ান মাহবুব মোর্শেদ। একই সঙ্গে সাবেক এমডি আবুল কালাম আজাদের কৃত অপকর্ম ঢাকতে সব ধরনের কৌশল গ্রহণ করেন। এ নিয়ে বাসসের অভ্যন্তরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দিন যতো যাচ্ছিল মাহবুব মোর্শেদের অপকর্মের জাল বিস্তৃত হচ্ছিল। যা শেষ নাগাদ দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিয়োজিত হতে হয়েছে, মন্ত্রণালয়, আদালত ও সিআইডিকেও।
এদিকে সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদেরকেও ত্যক্ত করতে বাকি রাখেননি আলোচিত মাহবুব মোর্শেদ। সংগঠন দুটি রাজপথে নামে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অতিষ্ট ছিল প্রধান উপদেষ্টার (সিএ) অফিসও। তাদের দেয়া সংবাদ পরিবেশনের দায়ে সাংবাদিককে নাজেহাল করেছেন মাহবুব। চাউর ছিল উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের প্রিয়পাত্র হওয়ায় সাবেক তথ্য উপদেষ্টারাও দুর্বৃত্ত মাহবুবের ধমকের শিকার হয়েছেন। তারা নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, বলেছেন স্যারের ওপর কিছু বলতে পারিনা…। মাহবুবের মতলবের শিকার হয়েছেন অনেক সাংবাদিক।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাসসের সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাহবুব মোর্শেদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সামনে আনে। তোপেরমুখে ওইদিন অফিস ছাড়েন তিনি। যাবার বেলাতে মন্ত্রণালয়কেও কালিমা দিয়েছেন এ ব্যক্তি। কারণ তার ওপর মব হয়েছে মর্মে অভিযোগ করেছেন। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সোমবার (০৯ মার্চ) এমডি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সমালোচিত মাহবুব মোর্শেদ।
বাসস সংশ্লিষ্টরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের চেয়েও ভয়ঙ্কর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত মাহবুবের বিচার চায় তারা। তার সময় অবৈধ ও অনিয়ম করে নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ তদন্তপূর্বক বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।
সাংবাদিক-কর্মচারী সম্মিলিত বিক্ষোভের মুখে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। সে সঙ্গে পালিয়ে যায় তার সহযোগী ফজলুল হক যাকে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের চলতি দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দুর্নীতিবাজ মাহবুব মোর্শেদ আর ফিরে আসেননি। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিকে সহায়তার কথা বলে অফিসে আসেন ফজলুল হক।

মাহবুব মোর্শেদের সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগে ফজলুল হক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন প্রাপ্ত। দুর্নীতির তথ্য দানে বাধা দেয়ার কারণে তিনি একটি ফৌজদারি মামলার আসামি।। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদনাধীন। সাংবাদিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকায় ফজলুল হক ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয় (ডিইউজে) থেকেও বহিষ্কৃত রয়েছেন।
এক সপ্তাহ পরে অফিসে এসে বাসসের সিনিয়র সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে মাহবুব মোর্শেদের অন্যায্য কাজে সহায়তা করা জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ফজলুল হক। ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের চলতি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বাংলা বিভাগে নিজের পদে ফিরে যেতে চান। কিন্তু মাত্র দুই তিন দিনের ব্যবধানে তাকে করা হয় ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)। আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা।
বাসস সাংবাদিকরা ছয়জনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। যাতে ঈদের আগে বেতন-ভাতাদি প্রদানে তাদের একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সাংবাদিক কাম মাটি ও মাছ ব্যবসায়ি সে ফজলুকেই গুরু দায়িত্বটি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও বাসস সাংবাদিক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্নীতিবাজের দোসরমুক্ত বাসস এবং অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগকৃত শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকের বিষয়ে তদন্ত চায় সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 
















