সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এই কর্মকর্তাকে প্রধান তথ্য অফিসারের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান তথ্য অফিসারের পদে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি বার্তা প্রচার এবং জনসংযোগ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত থাকবে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি প্রযোজ্য সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ করবেন এবং বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করবেন। এতে সরকারের তথ্য প্রচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হবে না বলেও আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালমা হাসনায়েন স্বাক্ষরিত এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আদেশটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার উলুখলা গ্রামের কৃতি সন্তান ইয়াকুব আলী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি ১৯৮৯ সালে নানশ্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯১ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৯৯৯ সালে চাকরিতে যোগদান করে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, তথ্য অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ‘দেশি-বিদেশি উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপ প্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস) হিসেবে তিন বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও রয়েছে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা। ছাত্রজীবনে জাতীয় দৈনিকে লেখালেখির মাধ্যমে তার সাহিত্যযাত্রা শুরু হলেও পরে তা নিয়মিত হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণমূলক লেখার মাধ্যমে তিনি নতুন করে পাঠকমহলে সাড়া জাগান। পাঠকদের আগ্রহে ২০২১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গ্রন্থ ‘মেঘ-রৌদ্রের দিন’। বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোসিয়েশন প্রকাশ করেছে তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘অচিন পথের ডায়েরি’।
সরকারি কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সেনেগাল, উগান্ডা, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
ফারজানা নাসরীন তার সহধর্মিনী এবং তাদের তিন পুত্র সন্তান রয়েছে।
Reporter Name 





















