ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা হচ্ছেন জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’, যাঁরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদ- হয়, তবে সেই মেরুদ-কে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়; বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি কলেজের শিক্ষকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা; বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে যেন লিখিতভাবে তাঁদের সুপারিশ জমা দেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও উন্নত করা যায়। শিক্ষকদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

শিক্ষাখাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফলাফল সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত করে। শিক্ষকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সকলকে আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানা তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা হচ্ছেন জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’, যাঁরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদ- হয়, তবে সেই মেরুদ-কে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়; বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি কলেজের শিক্ষকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা; বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে যেন লিখিতভাবে তাঁদের সুপারিশ জমা দেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও উন্নত করা যায়। শিক্ষকদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

শিক্ষাখাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফলাফল সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত করে। শিক্ষকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সকলকে আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানা তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।