ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এ দেশের: ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সালাম ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, দুর্ভোগের যেন শেষ নেই যুদ্ধে লন্ডভন্ড শ্রমবাজার, অনিশ্চয়তায় হাজারো প্রবাসী কর্মী শাকিবকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা: আগে এগিয়ে অপু, পরে বুবলী হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে নিজে কবরে নেমে লাশ দাফন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান জনকল্যাণে জিয়ার ‘গ্রাম সরকার’: বিকেন্দ্রীকরণে গ্রামীণ উন্নয়নের সম্ভাবনা মদনে সীমানা বিরোধে প্রাণহানি, প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-লুটের অভিযোগ মিঠামইন বাহেরচরে ডাকাত চক্রের তাণ্ডব: এক রাতে ৪ বাড়িতে হানা, প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ-সম্পদ চুরি  যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আরও ৬২ হাজার মেট্রিক টন গম

জনকল্যাণে জিয়ার ‘গ্রাম সরকার’: বিকেন্দ্রীকরণে গ্রামীণ উন্নয়নের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার

Oplus_16908288

গ্রাম এখন আর আগের সেই ‘অজপাড়া গাঁ’ নেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে গ্রামীণ জনপদের মানুষ, বেড়েছে সচেতনতা, প্রসারিত হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি। দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় তারা এখন অনেক বেশি সক্রিয়। নিজেদের মতো করে তারা আঁকছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বাস গ্রামাঞ্চলে। কৃষিই এখনও গ্রামীণ জীবনের মূল ভিত্তি হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসজীবন, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবহন, মৎস্য ও খামারসহ নানা পেশা। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনগণের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে দীর্ঘ ছুটিতে গ্রামগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। শহর-নগরে বসবাসকারী মানুষরা নাড়ির টানে ফিরে আসে শেকড়ে। এই সময়ে গ্রাম রূপ নেয় এক ধরনের ক্ষুদ্র শহরে। আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় তৈরি হয় এক অনন্য সামাজিক পরিবেশ।

গ্রামের চায়ের দোকানগুলো পরিণত হয় একেকটি ‘অনানুষ্ঠানিক সংসদে’। সেখানে আলোচনায় উঠে আসে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, প্রবাসীদের অবস্থা এবং স্থানীয় সমস্যা-সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক সময়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গ।

১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা চালু করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষের হাতে উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তুলে দেওয়া। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়নকে তৃণমূলমুখী করার একটি প্রয়াস ছিল এটি।

‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার আওতায় ছিল—স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা, রাস্তাঘাট ও খাল-সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা। ফলে ছোটখাটো সমস্যার জন্য জনগণকে আর শহরে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতো না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা এখনও প্রাসঙ্গিক। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ সিকান্দার খান বলেন, গ্রাম সরকার একটি কার্যকর ধারণা, যা ইউনিয়ন পরিষদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। যথাযথ আইনি ভিত্তি, বাজেট এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই মত পোষণ করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম। তার মতে, ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব, যা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

গ্রাম সরকার মূলত একটি গ্রামভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো, যেখানে একজন প্রধান ও কয়েকজন সদস্য মিলে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যদিও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই ধারণার পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি, তবুও এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৮০ সালের গ্রাম সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছিল।

বর্তমানে সরাসরি ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালু না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এর কিছু কার্যক্রম আংশিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘গ্রাম সরকার’ ধারণাটি নতুন আঙ্গিকে পুনরায় চালুর দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণদের প্রত্যাশা—এই ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে গ্রামের সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায়, যুগোপযোগী সংস্কার ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ‘গ্রাম সরকার’ পুনরুজ্জীবিত করা গেলে তা হতে পারে গ্রামীণ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এ দেশের: ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সালাম

জনকল্যাণে জিয়ার ‘গ্রাম সরকার’: বিকেন্দ্রীকরণে গ্রামীণ উন্নয়নের সম্ভাবনা

আপডেট টাইম : ১২:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

গ্রাম এখন আর আগের সেই ‘অজপাড়া গাঁ’ নেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে গ্রামীণ জনপদের মানুষ, বেড়েছে সচেতনতা, প্রসারিত হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি। দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় তারা এখন অনেক বেশি সক্রিয়। নিজেদের মতো করে তারা আঁকছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বাস গ্রামাঞ্চলে। কৃষিই এখনও গ্রামীণ জীবনের মূল ভিত্তি হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসজীবন, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবহন, মৎস্য ও খামারসহ নানা পেশা। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনগণের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে দীর্ঘ ছুটিতে গ্রামগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। শহর-নগরে বসবাসকারী মানুষরা নাড়ির টানে ফিরে আসে শেকড়ে। এই সময়ে গ্রাম রূপ নেয় এক ধরনের ক্ষুদ্র শহরে। আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় তৈরি হয় এক অনন্য সামাজিক পরিবেশ।

গ্রামের চায়ের দোকানগুলো পরিণত হয় একেকটি ‘অনানুষ্ঠানিক সংসদে’। সেখানে আলোচনায় উঠে আসে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, প্রবাসীদের অবস্থা এবং স্থানীয় সমস্যা-সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক সময়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গ।

১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা চালু করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষের হাতে উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তুলে দেওয়া। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়নকে তৃণমূলমুখী করার একটি প্রয়াস ছিল এটি।

‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার আওতায় ছিল—স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা, রাস্তাঘাট ও খাল-সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা। ফলে ছোটখাটো সমস্যার জন্য জনগণকে আর শহরে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতো না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা এখনও প্রাসঙ্গিক। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ সিকান্দার খান বলেন, গ্রাম সরকার একটি কার্যকর ধারণা, যা ইউনিয়ন পরিষদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। যথাযথ আইনি ভিত্তি, বাজেট এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই মত পোষণ করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম। তার মতে, ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব, যা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

গ্রাম সরকার মূলত একটি গ্রামভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো, যেখানে একজন প্রধান ও কয়েকজন সদস্য মিলে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যদিও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই ধারণার পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি, তবুও এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৮০ সালের গ্রাম সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছিল।

বর্তমানে সরাসরি ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালু না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এর কিছু কার্যক্রম আংশিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘গ্রাম সরকার’ ধারণাটি নতুন আঙ্গিকে পুনরায় চালুর দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণদের প্রত্যাশা—এই ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে গ্রামের সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায়, যুগোপযোগী সংস্কার ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ‘গ্রাম সরকার’ পুনরুজ্জীবিত করা গেলে তা হতে পারে গ্রামীণ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত।