দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের বিদায়ের প্রহর গুনছে মুসলিম উম্মাহ। এখন অপেক্ষা নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার; পশ্চিম আকাশে সেই সরু বাঁকা চাঁদ উদিত হলেই ছড়িয়ে পড়বে ঈদের আনন্দধারা। ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই মিলন ও সম্প্রীতির এক অনন্য উপলক্ষ।
প্রায় সাড়ে ১৪শ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় এসে দেখলেন, সেখানকার মানুষ বছরে দুই দিন উৎসব পালন করে। সেই উৎসব সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানায়, জাহেলি যুগ থেকেই এ দুটি দিন তারা উদযাপন করে আসছে। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের এ দুই দিনের পরিবর্তে আরও উত্তম দুই দিন দান করেছেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ : ১/১৬১)
সমাজের ধনী-গরিব সবার জন্যেই ঈদ আসে। ঈদের মাঠে জাত-পাত-উঁচু-নিচুর পার্থক্য নেই। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে মুসাফাহা ও কোলাকুলি করে। বন্ধু বন্ধুকে, ভাই ভাইকে বাড়িতে নিয়ে সেমাই-পায়েস খাওয়ায়। শিশুরা বড়দের সালাম করে, বড়রা আদর করে দেন ‘ঈদ সালামি’। এভাবেই আনন্দে আনন্দে কেটে যায় একটি দিন; ঈদের দিন।
ইসলামের বার্তা হলো ‘ঈদে নিজে আনন্দ কর, গরিবকেও উৎসব করার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো পোশাক পরিধান করো, অসহায়কেও পরার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো খাবার খাও, প্রতিবেশীকেও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।’ কিন্তু আমাদের সমাজের চিত্র ভিন্ন! ঈদ যেন কেবল বিত্তবানদের জন্যই আসে! ঈদের দিন বড়লোকের চোখেমুখে আনন্দের যেরকম ঝিলিক থাকে; গরিবের চেহারায় তা ফুটে উঠে না। ধনীর দুলালরা নতুন দামি জামা পরে যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, গরিবের সন্তান তা ছুঁয়েও দেখতে পারে না। ধনী-গরিবের এমন বৈষম্য ঘোচাতে ইসলাম কিছু বিধান জারি করে রেখেছে।
নির্দেশ দিয়েছে, ধনীরা যেন সম্পদের জাকাত দেয়। ঈদের নামাজের আগেই যেন সদকাতুল ফিতর আদায় করে। এসব গরিবের হক। গরিবও যেন ঈদে নতুন জামা কিনতে পারে। ভালো খাবার খেতে পারে। অপার্থিব আনন্দের সঙ্গে একটি দিন কাটাতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদের (সম্পদশালীদের) ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক’ (সুরা জারিয়াত : ১৯)। হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাকে অনর্থক কথা ও অশ্লীল ব্যবহার থেকে পবিত্র করার এবং গরিবদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া জন্যে।’ (আবু দাউদ : ১৬১১)
ঈদে অপেক্ষাকৃত গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তাদের হক আদায় করতে হবে। তারাও যেন উৎসব পালনে শামিল হতে পারে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর, তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সঙ্গে, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)
অতএব আসুন, ঈদের আগেই গরিবদের মাঝে আমাদের জাকাত, ফিতরা সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তাদের ঈদকেও আনন্দময় করে তুলি। যাদের জন্য জাকাত বা ফিতরা দেওয়া ফরজ নয়; তারাও দান-সদকার হাত প্রসারিত করতে পারি। অন্তত একটি গরিব পরিবার বা একজন অসহায় মানুষের ঈদ আনন্দের দায়িত্ব নিতে পারি আমরা। তবেই না দূর হবে ধনী-গরিবের বৈষম্য। সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে ঈদুল ফিতরের অপার্থিব আনন্দ।
Reporter Name 

























