রমজান মাসে ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সাংগঠনিক আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের উদ্যোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মতে, এসব আয়োজনকে তারা রাজনীতিতে পুনঃপ্রবেশের একটি ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবেও বিবেচনা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের আশঙ্কায় দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী আড়ালে চলে যান। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন তারা। এরই প্রেক্ষাপটে রমজান মাসকে সামনে রেখে ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে পুনরায় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর এ প্রচেষ্টা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপকমিটি এবং যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে ইফতার আয়োজন করছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন বা কারাগারে থাকায় দলীয়ভাবে বড় কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। যারা দেশে আছেন, তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থাকায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উপস্থিতিও খুব একটা চোখে পড়ছে না।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যক্তিগত স্থানে ছোট ছোট সমাবেশে নেতাকর্মীদের ইফতার করতে দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো দলীয় ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরে এসব অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা রাজধানীর কালভার্ট রোডের স্বদেশ টাওয়ারে ব্যানার টাঙিয়ে ইফতার আয়োজন করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের একটি উপকমিটির নেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পাশে ইফতার মাহফিল করেন, যেখানে প্রায় ২০-২৫ জন উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে বংশালের একটি রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে দেখা গেছে। একইভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও ইফতার আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যদিও স্থান স্পষ্ট করা হয়নি।
দলটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় তারা প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। হামলা, মামলা ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হওয়ায় তারা আবারও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মতে, ইফতার মাহফিল শুধু সামাজিক আয়োজন নয়; এর মাধ্যমে রাজনৈতিক আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও কথা হচ্ছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের ধারণা, এসব নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি ধীরে ধীরে আবারও সক্রিয় হতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের অবস্থান থেকে অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর এখন অনেকেই আবার একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব বৈঠকে ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলে মনে করায় তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ইফতার আয়োজন করেছেন। তার ভাষায়, ‘অনেক দিন পর একসঙ্গে বসে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
Reporter Name 

























