ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান; পরমুহূর্তেই ইসরায়েলে অপ্রতিরোধ্য ক্লাস্টার বোমা হামলা, চাকুরীচ্যুত হল মার্কিন সেনাপ্রধান ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে সাহায্যের ধুম ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকের কান্না

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ২১ বার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পুরো আমেরিকা মহাদেশ অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে, এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন প্রতিবেদনে। ইন্টার আমেরিকান প্রেস এসোসিয়েশন (আইএপিএ) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাদের সর্বশেষ প্রেস ফ্রিডম সূচক প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সূচক প্রকাশ শুরু হওয়ার পর গত বছরই অঞ্চলটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকেরা বলেছেন, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি ঘটেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সাংবাদিকদের হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং অপরাধের বিচারহীনতা বেড়েছে।

২৩টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান চতুর্থ থেকে নেমে ১১তম স্থানে এসেছে, যা সেখানে সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এ পতনের অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষাকে দুর্বল করেছে। সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত করা, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং ভয়েস অভ আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপকে সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলাকে এখনও “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই” এমন দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ৪০০টির বেশি রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদর সূচকে ২১তম স্থানে নেমে এসেছে। দেশটির সাংবাদিক সংগঠন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Nayib Bukele-এর সরকারের ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের কারণে গত এক বছরে প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, হন্ডুরাস, পেরু, মেক্সিকো, হাইতি, কিউবা ও এল সালভাদর—এই আটটি দেশকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার বিধিনিষেধ থাকা দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ডোমিনিকান রিপাবলিক, চিলি, কানাডা ও ব্রাজিলকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : ১১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পুরো আমেরিকা মহাদেশ অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে, এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন প্রতিবেদনে। ইন্টার আমেরিকান প্রেস এসোসিয়েশন (আইএপিএ) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাদের সর্বশেষ প্রেস ফ্রিডম সূচক প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সূচক প্রকাশ শুরু হওয়ার পর গত বছরই অঞ্চলটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকেরা বলেছেন, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি ঘটেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সাংবাদিকদের হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং অপরাধের বিচারহীনতা বেড়েছে।

২৩টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান চতুর্থ থেকে নেমে ১১তম স্থানে এসেছে, যা সেখানে সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এ পতনের অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষাকে দুর্বল করেছে। সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত করা, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং ভয়েস অভ আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপকে সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলাকে এখনও “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই” এমন দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ৪০০টির বেশি রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদর সূচকে ২১তম স্থানে নেমে এসেছে। দেশটির সাংবাদিক সংগঠন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Nayib Bukele-এর সরকারের ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের কারণে গত এক বছরে প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, হন্ডুরাস, পেরু, মেক্সিকো, হাইতি, কিউবা ও এল সালভাদর—এই আটটি দেশকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার বিধিনিষেধ থাকা দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ডোমিনিকান রিপাবলিক, চিলি, কানাডা ও ব্রাজিলকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।