ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রতি উপজেলায় ১০ তরুণ উদ্যোক্তাকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের সফরে কী কী হলো বিরোধীদলের লংমার্চের কৌশল মানুষ বুঝে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোপ লিওর ফ্রান্স সফরে ধর্মীয় আবহ, প্যারিস-লুর্দে মানুষের ঢল নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক থেকে সাংবাদিক সূর্য আটক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে বৈঠক, নিয়োগপত্র নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ফেসবুকে মিথ্যাচারের সুযোগ দেওয়া হবে না : এলজিআরডি মন্ত্রী ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় কিনবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইউনিট, শাখা থাকবে যেসব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

নারী সাহাবিরা যেসব পেশায় যুক্ত ছিলেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৭৩ বার

মহানবীর (সা.) যুগে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনেক নারী সাহাবি সমাজের বিভিন্ন কাজ ও পেশায় যুক্ত ছিলেন। ইতিহাস ও হাদিসগ্রন্থে তাদের নানা ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

চিকিৎসা ও সেবাকাজ

কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্র ও সাধারণ সময়েও চিকিৎসা ও সেবাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হজরত উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া (রা.)। তিনি আহত সাহাবিদের সেবা করতেন। আরেকজন হলেন হজরত রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)। তিনি ইসলামের প্রথম নার্সদের একজন হিসেবে পরিচিত; তিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা করতেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য

সংসার, সমাজসেবার পাশাপাশি নারী সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসার কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতেন।

কৃষিকাজ

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিকাজেও অংশ নিতেন কিছু নারী সাহাবি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি নিজের হাতে জমিতে কাজ করতেন এবং খেজুর বাগানের দেখাশোনা করতেন।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ছাড়াও শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নারী সাহাবিরা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি ছিলেন অন্যতম বড় আলিমা; অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবিরাও তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন।

হস্তশিল্প ও কারুশিল্প

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারের পাশাপাশি হস্তশিল্প ও কারুশিল্পেও নারী সাহাবিদের অবদান রয়েছে। নারী সাহাবিদের অনেকেই কাপড় বোনা, সেলাই, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)। তিনি নিজের হাতে কাজ করতেন এবং সেই আয়ে দান-সদকা করতেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা, জ্ঞান প্রচার, হস্তশিল্প, কারুশিল্প ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তার কাজ করতেন নারী সাহাবিরা। কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নুসাইবা বিনতে কাব (উম্মে আম্মারা) (রা.) অন্যতম। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করতে লড়াই করেন। এছড়াও উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে সাহস ও দৃঢ়তার বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মহানবী (সা.)-এর ফুফু হজরত সাফিয়্যা (রা. )।

এছাড়াও অনেক নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া ও চিকিৎসার কাজ করতেন।

দাই বা প্রসূতি সহায়তা

নারী সাহাবিদের অনেকে প্রসূতি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, যাকে বর্তমানের ধাত্রী বা দাই বলা যায়।

বাজার তদারকি

শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর চাচাতো বোন ছিলেন। তিনি চর্মরোগের চিকিৎসা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওমর (রা.)-এর সময়ে তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে অনেকেই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বলা যায়, নবীজির যুগে নারী সাহাবিরা ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, কারুশিল্প, সমাজসেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নারীরা সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতি উপজেলায় ১০ তরুণ উদ্যোক্তাকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

নারী সাহাবিরা যেসব পেশায় যুক্ত ছিলেন

আপডেট টাইম : ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মহানবীর (সা.) যুগে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনেক নারী সাহাবি সমাজের বিভিন্ন কাজ ও পেশায় যুক্ত ছিলেন। ইতিহাস ও হাদিসগ্রন্থে তাদের নানা ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

চিকিৎসা ও সেবাকাজ

কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্র ও সাধারণ সময়েও চিকিৎসা ও সেবাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হজরত উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া (রা.)। তিনি আহত সাহাবিদের সেবা করতেন। আরেকজন হলেন হজরত রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)। তিনি ইসলামের প্রথম নার্সদের একজন হিসেবে পরিচিত; তিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা করতেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য

সংসার, সমাজসেবার পাশাপাশি নারী সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসার কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতেন।

কৃষিকাজ

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিকাজেও অংশ নিতেন কিছু নারী সাহাবি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি নিজের হাতে জমিতে কাজ করতেন এবং খেজুর বাগানের দেখাশোনা করতেন।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ছাড়াও শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নারী সাহাবিরা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি ছিলেন অন্যতম বড় আলিমা; অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবিরাও তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন।

হস্তশিল্প ও কারুশিল্প

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারের পাশাপাশি হস্তশিল্প ও কারুশিল্পেও নারী সাহাবিদের অবদান রয়েছে। নারী সাহাবিদের অনেকেই কাপড় বোনা, সেলাই, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)। তিনি নিজের হাতে কাজ করতেন এবং সেই আয়ে দান-সদকা করতেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা, জ্ঞান প্রচার, হস্তশিল্প, কারুশিল্প ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তার কাজ করতেন নারী সাহাবিরা। কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নুসাইবা বিনতে কাব (উম্মে আম্মারা) (রা.) অন্যতম। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করতে লড়াই করেন। এছড়াও উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে সাহস ও দৃঢ়তার বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মহানবী (সা.)-এর ফুফু হজরত সাফিয়্যা (রা. )।

এছাড়াও অনেক নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া ও চিকিৎসার কাজ করতেন।

দাই বা প্রসূতি সহায়তা

নারী সাহাবিদের অনেকে প্রসূতি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, যাকে বর্তমানের ধাত্রী বা দাই বলা যায়।

বাজার তদারকি

শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর চাচাতো বোন ছিলেন। তিনি চর্মরোগের চিকিৎসা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওমর (রা.)-এর সময়ে তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে অনেকেই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বলা যায়, নবীজির যুগে নারী সাহাবিরা ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, কারুশিল্প, সমাজসেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নারীরা সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।