ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

নারী সাহাবিরা যেসব পেশায় যুক্ত ছিলেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৬ বার

মহানবীর (সা.) যুগে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনেক নারী সাহাবি সমাজের বিভিন্ন কাজ ও পেশায় যুক্ত ছিলেন। ইতিহাস ও হাদিসগ্রন্থে তাদের নানা ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

চিকিৎসা ও সেবাকাজ

কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্র ও সাধারণ সময়েও চিকিৎসা ও সেবাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হজরত উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া (রা.)। তিনি আহত সাহাবিদের সেবা করতেন। আরেকজন হলেন হজরত রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)। তিনি ইসলামের প্রথম নার্সদের একজন হিসেবে পরিচিত; তিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা করতেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য

সংসার, সমাজসেবার পাশাপাশি নারী সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসার কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতেন।

কৃষিকাজ

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিকাজেও অংশ নিতেন কিছু নারী সাহাবি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি নিজের হাতে জমিতে কাজ করতেন এবং খেজুর বাগানের দেখাশোনা করতেন।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ছাড়াও শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নারী সাহাবিরা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি ছিলেন অন্যতম বড় আলিমা; অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবিরাও তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন।

হস্তশিল্প ও কারুশিল্প

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারের পাশাপাশি হস্তশিল্প ও কারুশিল্পেও নারী সাহাবিদের অবদান রয়েছে। নারী সাহাবিদের অনেকেই কাপড় বোনা, সেলাই, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)। তিনি নিজের হাতে কাজ করতেন এবং সেই আয়ে দান-সদকা করতেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা, জ্ঞান প্রচার, হস্তশিল্প, কারুশিল্প ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তার কাজ করতেন নারী সাহাবিরা। কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নুসাইবা বিনতে কাব (উম্মে আম্মারা) (রা.) অন্যতম। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করতে লড়াই করেন। এছড়াও উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে সাহস ও দৃঢ়তার বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মহানবী (সা.)-এর ফুফু হজরত সাফিয়্যা (রা. )

এছাড়াও অনেক নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া ও চিকিৎসার কাজ করতেন।

দাই বা প্রসূতি সহায়তা

নারী সাহাবিদের অনেকে প্রসূতি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, যাকে বর্তমানের ধাত্রী বা দাই বলা যায়।

বাজার তদারকি

শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর চাচাতো বোন ছিলেন। তিনি চর্মরোগের চিকিৎসা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওমর (রা.)-এর সময়ে তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে অনেকেই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বলা যায়, নবীজির যুগে নারী সাহাবিরা ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, কারুশিল্প, সমাজসেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নারীরা সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

নারী সাহাবিরা যেসব পেশায় যুক্ত ছিলেন

আপডেট টাইম : ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মহানবীর (সা.) যুগে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনেক নারী সাহাবি সমাজের বিভিন্ন কাজ ও পেশায় যুক্ত ছিলেন। ইতিহাস ও হাদিসগ্রন্থে তাদের নানা ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

চিকিৎসা ও সেবাকাজ

কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্র ও সাধারণ সময়েও চিকিৎসা ও সেবাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হজরত উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া (রা.)। তিনি আহত সাহাবিদের সেবা করতেন। আরেকজন হলেন হজরত রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)। তিনি ইসলামের প্রথম নার্সদের একজন হিসেবে পরিচিত; তিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা করতেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য

সংসার, সমাজসেবার পাশাপাশি নারী সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসার কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতেন।

কৃষিকাজ

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিকাজেও অংশ নিতেন কিছু নারী সাহাবি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি নিজের হাতে জমিতে কাজ করতেন এবং খেজুর বাগানের দেখাশোনা করতেন।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ছাড়াও শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নারী সাহাবিরা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহানবীর (সা.) সহধর্মীনী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। তিনি ছিলেন অন্যতম বড় আলিমা; অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবিরাও তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন।

হস্তশিল্প ও কারুশিল্প

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারের পাশাপাশি হস্তশিল্প ও কারুশিল্পেও নারী সাহাবিদের অবদান রয়েছে। নারী সাহাবিদের অনেকেই কাপড় বোনা, সেলাই, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)। তিনি নিজের হাতে কাজ করতেন এবং সেই আয়ে দান-সদকা করতেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা

সংসার, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষা, জ্ঞান প্রচার, হস্তশিল্প, কারুশিল্প ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তার কাজ করতেন নারী সাহাবিরা। কিছু নারী সাহাবি যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নুসাইবা বিনতে কাব (উম্মে আম্মারা) (রা.) অন্যতম। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করতে লড়াই করেন। এছড়াও উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে সাহস ও দৃঢ়তার বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মহানবী (সা.)-এর ফুফু হজরত সাফিয়্যা (রা. )

এছাড়াও অনেক নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া ও চিকিৎসার কাজ করতেন।

দাই বা প্রসূতি সহায়তা

নারী সাহাবিদের অনেকে প্রসূতি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, যাকে বর্তমানের ধাত্রী বা দাই বলা যায়।

বাজার তদারকি

শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর চাচাতো বোন ছিলেন। তিনি চর্মরোগের চিকিৎসা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওমর (রা.)-এর সময়ে তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে অনেকেই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বলা যায়, নবীজির যুগে নারী সাহাবিরা ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, কারুশিল্প, সমাজসেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নারীরা সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।