ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে ইরান।

মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানায় ব্লুমবার্গ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষতির ফলে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘থাড রাডারের ওপর ইরানের এই হামলা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের কাছে আরও রাডার রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কভারেজ অব্যাহত রাখতে পারে। এসবের মাধ্যমে থাড রাডার হারানোর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে।’

স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থায় ব্যবহৃত রাডার এবং সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ৩ মার্চ। প্রথমদিকে উভয় হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরে রাডার ধ্বংসের খবর প্রকাশ হয়।

মার্কিন থাড ইউনিটগুলো বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম, যা প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির তুলনায় আরও জটিল হুমকি মোকাবিলা করে। কিন্তু এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার অচল হয়ে যাওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দায়িত্ব এখন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য ও হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন করা হতে পারে। এ বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

আপডেট টাইম : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে ইরান।

মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানায় ব্লুমবার্গ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষতির ফলে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘থাড রাডারের ওপর ইরানের এই হামলা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের কাছে আরও রাডার রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কভারেজ অব্যাহত রাখতে পারে। এসবের মাধ্যমে থাড রাডার হারানোর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে।’

স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থায় ব্যবহৃত রাডার এবং সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ৩ মার্চ। প্রথমদিকে উভয় হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরে রাডার ধ্বংসের খবর প্রকাশ হয়।

মার্কিন থাড ইউনিটগুলো বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম, যা প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির তুলনায় আরও জটিল হুমকি মোকাবিলা করে। কিন্তু এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার অচল হয়ে যাওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দায়িত্ব এখন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য ও হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন করা হতে পারে। এ বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে।