ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান? সচিব পদে উঠতে যাচ্ছেন প্রায় ১৫০ কর্মকর্তা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব পদে কামরুজ্জামান চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ রণাঙ্গন থেকে সংসদে: মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক বীর ফজলুর রহমান শিক্ষা সচিব পদে আবদুল খালেকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময় চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দোষী অনেকে তালিকা থেকে বাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় হবে কি না, সিদ্ধান্ত সংসদে: ইসি আনোয়ারুল ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে যাওয়া ইউনূসের গেজেট কোথায় গরু নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হচ্ছিলেন কৃষক, স্রোতের টানে গেল প্রাণ নির্দেশনা না মানলে শাস্তির ঘোষণা অধিদপ্তরের

রণাঙ্গন থেকে সংসদে: মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক বীর ফজলুর রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৪১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

Oplus_16908288

মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা ইতিহাসের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি অর্জন করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও লাল-সবুজের পতাকা। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও যিনি নির্ভীকভাবে কথা বলে চলেছেন, তিনি রণাঙ্গনের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি বেশি পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের জন্য। নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে এনে তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এবং সকল ভোটের মধ্যে বলে আসছিলেন যারা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের লোক তারা আমাকে ভোট দিবেন আর যারা মুক্তিযোদ্ধা কে স্বীকার করেন না তাদের ভোটের আমার দরকার নেই।

নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ফজলুর রহমান প্রায়ই উপস্থিত জনতার কাছে প্রশ্ন রাখতেন—কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে? উত্তরে হাত তুলতেন প্রায় সবাই। আবার রাজাকারদের পক্ষে কারা—এ প্রশ্নে দেখা যেত সম্পূর্ণ নীরবতা। তার এই স্পষ্ট অবস্থান দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধপন্থী মানুষের সমর্থন অর্জনে ভূমিকা রাখে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

ছাত্রজীবন থেকেই অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ রাজনীতিক তার একাধিক জনসভায় বলেন, তিনি দীর্ঘ ৬১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—ব্যক্তি অপছন্দ হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে সমর্থন না দিতে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিলেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রচারণার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফজলুর রহমান। তার দৃঢ় অবস্থান যেমন মুক্তিযুদ্ধপন্থীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। তবে এসব সমালোচনার জবাবেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন।

সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা ফজলুর রহমান ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি ভিন্ন ধারায় সক্রিয় হন এবং ২০০৮ সালের আগে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি। এই চেতনার ওপর রাষ্ট্র পরিচালিত হলে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।”
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী এই প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা বরাবরই অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসছেন। স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে তার প্রত্যাশা—দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান? সচিব পদে উঠতে যাচ্ছেন প্রায় ১৫০ কর্মকর্তা

রণাঙ্গন থেকে সংসদে: মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক বীর ফজলুর রহমান

আপডেট টাইম : ০১:৪১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা ইতিহাসের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি অর্জন করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও লাল-সবুজের পতাকা। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও যিনি নির্ভীকভাবে কথা বলে চলেছেন, তিনি রণাঙ্গনের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি বেশি পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের জন্য। নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে এনে তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এবং সকল ভোটের মধ্যে বলে আসছিলেন যারা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের লোক তারা আমাকে ভোট দিবেন আর যারা মুক্তিযোদ্ধা কে স্বীকার করেন না তাদের ভোটের আমার দরকার নেই।

নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ফজলুর রহমান প্রায়ই উপস্থিত জনতার কাছে প্রশ্ন রাখতেন—কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে? উত্তরে হাত তুলতেন প্রায় সবাই। আবার রাজাকারদের পক্ষে কারা—এ প্রশ্নে দেখা যেত সম্পূর্ণ নীরবতা। তার এই স্পষ্ট অবস্থান দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধপন্থী মানুষের সমর্থন অর্জনে ভূমিকা রাখে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

ছাত্রজীবন থেকেই অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ রাজনীতিক তার একাধিক জনসভায় বলেন, তিনি দীর্ঘ ৬১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—ব্যক্তি অপছন্দ হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে সমর্থন না দিতে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিলেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রচারণার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফজলুর রহমান। তার দৃঢ় অবস্থান যেমন মুক্তিযুদ্ধপন্থীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। তবে এসব সমালোচনার জবাবেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন।

সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা ফজলুর রহমান ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি ভিন্ন ধারায় সক্রিয় হন এবং ২০০৮ সালের আগে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি। এই চেতনার ওপর রাষ্ট্র পরিচালিত হলে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।”
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী এই প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা বরাবরই অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসছেন। স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে তার প্রত্যাশা—দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।