ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

২০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘মসজিদে নূর’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৬১ বার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে দুই শতাব্দীর নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। তবে এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের সার্থকতা বজায় রেখে এই স্থাপনাটি যেন দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো জনপদে। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি এখন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পর্যটকদের জন্যও এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনা পাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মসজিদের প্রবেশপথে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম, যা আজও ইতিহাসের স্থায়ী দলিল হিসেবে টিকে আছে।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে রয়েছে ৫৩ ফুট বাই ৩০ ফুটের দেয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৯টি গম্বুজ রয়েছে। মার্বেল পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শৈল্পিক নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্য। প্রতিটি খিলান ও অলংকরণ যেন আভিজাত্য ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।

মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল দিঘি। দিঘির স্বচ্ছ জলে ওজু করেন মুসল্লিরা। পাখির ডাক, আজানের ধ্বনি আর দিঘির শান্ত পরিবেশ এখানে আসা মানুষের মনে এক অপার্থিব প্রশান্তি এনে দেয়।

সময়ের প্রয়োজনে মূল কাঠামো ঠিক রেখেই তিন দফায় মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান ও তারাবির সময় মুসল্লিদের ভিড়ে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, রূপসা বাজারের মূল পরিচয়ই হলো এই মসজিদ। বাইরের কোনো অতিথি এলে আমরা গর্বের সঙ্গে তাদের এই স্থাপত্য দেখাই।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খতিব মাওলানা মো. আবদুর রহমান বলেন, এই মসজিদ আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে পূর্বপুরুষদের দোয়ার স্পর্শ পাওয়া যায়।

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এই ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন, সেই আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি না করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

২০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘মসজিদে নূর’

আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে দুই শতাব্দীর নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। তবে এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের সার্থকতা বজায় রেখে এই স্থাপনাটি যেন দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো জনপদে। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি এখন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পর্যটকদের জন্যও এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনা পাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মসজিদের প্রবেশপথে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম, যা আজও ইতিহাসের স্থায়ী দলিল হিসেবে টিকে আছে।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে রয়েছে ৫৩ ফুট বাই ৩০ ফুটের দেয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৯টি গম্বুজ রয়েছে। মার্বেল পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শৈল্পিক নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্য। প্রতিটি খিলান ও অলংকরণ যেন আভিজাত্য ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।

মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল দিঘি। দিঘির স্বচ্ছ জলে ওজু করেন মুসল্লিরা। পাখির ডাক, আজানের ধ্বনি আর দিঘির শান্ত পরিবেশ এখানে আসা মানুষের মনে এক অপার্থিব প্রশান্তি এনে দেয়।

সময়ের প্রয়োজনে মূল কাঠামো ঠিক রেখেই তিন দফায় মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান ও তারাবির সময় মুসল্লিদের ভিড়ে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, রূপসা বাজারের মূল পরিচয়ই হলো এই মসজিদ। বাইরের কোনো অতিথি এলে আমরা গর্বের সঙ্গে তাদের এই স্থাপত্য দেখাই।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খতিব মাওলানা মো. আবদুর রহমান বলেন, এই মসজিদ আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে পূর্বপুরুষদের দোয়ার স্পর্শ পাওয়া যায়।

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এই ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন, সেই আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি না করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।