ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

২০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘মসজিদে নূর’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ১০৪ বার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে দুই শতাব্দীর নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। তবে এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের সার্থকতা বজায় রেখে এই স্থাপনাটি যেন দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো জনপদে। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি এখন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পর্যটকদের জন্যও এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনা পাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মসজিদের প্রবেশপথে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম, যা আজও ইতিহাসের স্থায়ী দলিল হিসেবে টিকে আছে।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে রয়েছে ৫৩ ফুট বাই ৩০ ফুটের দেয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৯টি গম্বুজ রয়েছে। মার্বেল পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শৈল্পিক নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্য। প্রতিটি খিলান ও অলংকরণ যেন আভিজাত্য ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।

মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল দিঘি। দিঘির স্বচ্ছ জলে ওজু করেন মুসল্লিরা। পাখির ডাক, আজানের ধ্বনি আর দিঘির শান্ত পরিবেশ এখানে আসা মানুষের মনে এক অপার্থিব প্রশান্তি এনে দেয়।

সময়ের প্রয়োজনে মূল কাঠামো ঠিক রেখেই তিন দফায় মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান ও তারাবির সময় মুসল্লিদের ভিড়ে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, রূপসা বাজারের মূল পরিচয়ই হলো এই মসজিদ। বাইরের কোনো অতিথি এলে আমরা গর্বের সঙ্গে তাদের এই স্থাপত্য দেখাই।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খতিব মাওলানা মো. আবদুর রহমান বলেন, এই মসজিদ আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে পূর্বপুরুষদের দোয়ার স্পর্শ পাওয়া যায়।

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এই ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন, সেই আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি না করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

২০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘মসজিদে নূর’

আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে দুই শতাব্দীর নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। তবে এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের সার্থকতা বজায় রেখে এই স্থাপনাটি যেন দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো জনপদে। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি এখন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পর্যটকদের জন্যও এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনা পাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মসজিদের প্রবেশপথে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম, যা আজও ইতিহাসের স্থায়ী দলিল হিসেবে টিকে আছে।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে রয়েছে ৫৩ ফুট বাই ৩০ ফুটের দেয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৯টি গম্বুজ রয়েছে। মার্বেল পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শৈল্পিক নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্য। প্রতিটি খিলান ও অলংকরণ যেন আভিজাত্য ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।

মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল দিঘি। দিঘির স্বচ্ছ জলে ওজু করেন মুসল্লিরা। পাখির ডাক, আজানের ধ্বনি আর দিঘির শান্ত পরিবেশ এখানে আসা মানুষের মনে এক অপার্থিব প্রশান্তি এনে দেয়।

সময়ের প্রয়োজনে মূল কাঠামো ঠিক রেখেই তিন দফায় মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান ও তারাবির সময় মুসল্লিদের ভিড়ে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, রূপসা বাজারের মূল পরিচয়ই হলো এই মসজিদ। বাইরের কোনো অতিথি এলে আমরা গর্বের সঙ্গে তাদের এই স্থাপত্য দেখাই।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খতিব মাওলানা মো. আবদুর রহমান বলেন, এই মসজিদ আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে পূর্বপুরুষদের দোয়ার স্পর্শ পাওয়া যায়।

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এই ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন, সেই আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি না করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।