ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন নিজেই রাস্তায় নেমেছি, অপরাধীদের ছাড় নেই: আইজিপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার

নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র দুইদিন। এর মধ্যে তিনি নিজেই মধ্যরাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন আইজিপি।

তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। এ কারণে আমি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাস্তায় নেমেছি।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনা করে ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে মাদক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৮৬ সালে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নিজেও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন আইজিপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভাঙারি ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার বিস্তার রয়েছে।

আইজিপি আরও বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার পর এখন সড়কও দখলের শিকার। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতার প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার, আর ঢাকা শহরেই প্রায় ৪ কোটি মানুষের বসবাস। তাই নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি নিজেও রাতে টহলে থাকার ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য, আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরও সক্রিয় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে।

আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে এবং যে-ই অপরাধী হোক কঠোরভাবে দমন করা হবে। হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তার মতে, শুধু পোশাক বা সরঞ্জাম নয়; পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যরাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন নিজেই রাস্তায় নেমেছি, অপরাধীদের ছাড় নেই: আইজিপি

আপডেট টাইম : ১২:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র দুইদিন। এর মধ্যে তিনি নিজেই মধ্যরাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন আইজিপি।

তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। এ কারণে আমি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাস্তায় নেমেছি।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনা করে ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে মাদক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৮৬ সালে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নিজেও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন আইজিপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভাঙারি ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার বিস্তার রয়েছে।

আইজিপি আরও বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার পর এখন সড়কও দখলের শিকার। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতার প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার, আর ঢাকা শহরেই প্রায় ৪ কোটি মানুষের বসবাস। তাই নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি নিজেও রাতে টহলে থাকার ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য, আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরও সক্রিয় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে।

আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে এবং যে-ই অপরাধী হোক কঠোরভাবে দমন করা হবে। হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তার মতে, শুধু পোশাক বা সরঞ্জাম নয়; পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।