ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিল্পপতি থেকে জননেতা ত্যাগের মূল্যায়ন পেলেন হাজি ইয়াছিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সরকারে কৃষি, খাদ্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন। রাজনীতিতে আসার পূর্বে তিনি ছিলেন শিল্পপতি। ব্যবসা দিয়ে জীবনের যাত্রা শুরু করেন তিনি। ওষুধ, খাদ্য সামগ্রী,পাটজাত পণ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট, পাদুকা শিল্প কারখানা রয়েছে তার। বর্তমানে ৩০ হাজারের অধিক শ্রমিক তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ১৯৯২ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরীর হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। শিল্পপতি থেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে সদর দক্ষিণে তার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজী ইয়াছিন কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি কুমিল্লা কোতয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মনোনীত হন তিনি।

এছাড়া ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনিত হন।  ২০২২ সালের ৩০ মে হাজি ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।  সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন তিনি।  ১/১১ পরবর্তী কঠিন সময়ে হাজী ইয়াছিন নির্ভীকভাবে মাঠে ছিলেন।  গত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও হুলিয়া মাথায় নিয়েও তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজী ইয়াছিন দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। আসনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ইয়াছিনের নেতাকর্মীরা লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে ইয়াছিনকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নেন। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইয়াসিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে কুমিল্লা সদর আসনে মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বাকি পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

নেতাকর্মীরা জানায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা চারটি সংসদীয় আসনে তিনি বিদ্রোহের অবসান ঘটান। এতে দলের হাই কমান্ড তার ওপর সন্তুষ্ট হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, এটা আমার জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ পাওয়া। রাজনীতির জীবনে যত ত্যাগ স্বীকার করেছি এখন এর ষোলো আনা প্রতিদান পেয়েছি। আমার জীবনে আর কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতিদান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব ন্যায় নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করব।

তিনি বলেন, আমি কৃষি সেক্টরে অনেক উন্নয়ন করব। আমার দায়িত্বরত প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করব। নিজে কখনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়াবো না।  কাউকে অনিয়ম দুর্নীতি করতে সুযোগও দেব না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্পপতি থেকে জননেতা ত্যাগের মূল্যায়ন পেলেন হাজি ইয়াছিন

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সরকারে কৃষি, খাদ্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন। রাজনীতিতে আসার পূর্বে তিনি ছিলেন শিল্পপতি। ব্যবসা দিয়ে জীবনের যাত্রা শুরু করেন তিনি। ওষুধ, খাদ্য সামগ্রী,পাটজাত পণ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট, পাদুকা শিল্প কারখানা রয়েছে তার। বর্তমানে ৩০ হাজারের অধিক শ্রমিক তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ১৯৯২ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরীর হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। শিল্পপতি থেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে সদর দক্ষিণে তার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজী ইয়াছিন কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি কুমিল্লা কোতয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মনোনীত হন তিনি।

এছাড়া ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনিত হন।  ২০২২ সালের ৩০ মে হাজি ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।  সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন তিনি।  ১/১১ পরবর্তী কঠিন সময়ে হাজী ইয়াছিন নির্ভীকভাবে মাঠে ছিলেন।  গত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও হুলিয়া মাথায় নিয়েও তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজী ইয়াছিন দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। আসনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ইয়াছিনের নেতাকর্মীরা লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে ইয়াছিনকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নেন। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইয়াসিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে কুমিল্লা সদর আসনে মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বাকি পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

নেতাকর্মীরা জানায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা চারটি সংসদীয় আসনে তিনি বিদ্রোহের অবসান ঘটান। এতে দলের হাই কমান্ড তার ওপর সন্তুষ্ট হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, এটা আমার জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ পাওয়া। রাজনীতির জীবনে যত ত্যাগ স্বীকার করেছি এখন এর ষোলো আনা প্রতিদান পেয়েছি। আমার জীবনে আর কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতিদান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব ন্যায় নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করব।

তিনি বলেন, আমি কৃষি সেক্টরে অনেক উন্নয়ন করব। আমার দায়িত্বরত প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করব। নিজে কখনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়াবো না।  কাউকে অনিয়ম দুর্নীতি করতে সুযোগও দেব না।