ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

পাঙ্গাশ মাছ নিয়ে এত ভয় কেন? জানুন কারণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৫ বার
মাছ বাজারে গেলেই দেখা যায় বড় বড় পাঙ্গাশ মাছ। চোখে পড়ে বরফের ওপর সাজানো কাটা পাঙ্গাশ মাছও। দাম তুলনামূলক কম, কাঁটা কম, রান্নাও ঝামেলাহীন—এই কারণেই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে পাঙ্গাশ মাছ বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের কাছে এই মাছের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঙ্গাশ নিয়ে নানা ভয় ছড়াচ্ছে—কেউ বলছেন এই মাছ বিষে ভরা, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো পুষ্টিগুণই নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলোর ভিত্তি কতটা সত্য?

পাঙ্গাশ কি আদৌ অস্বাস্থ্যকর?

পাঙ্গাশ মূলত একটি চাষের মাছ। এটি দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন বেশি হয়, সেই কারণেই বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু দাম কম মানেই যে পুষ্টিগুণ কম, এমনটা নয়।

পাঙ্গাশ মাছে ভালো মাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাদের জন্য পাঙ্গাশ হতে পারে সহজলভ্য প্রোটিনের একটি উৎস।এ ছাড়া এই মাছে কিছু পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি না হলেও, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পাঙ্গাশে আয়রন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।তাহলে বিতর্কটা কোথায়?

সমস্যা মূলত মাছের চাষপদ্ধতি নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ দ্রুত বড় করতে অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি এসব উপাদান নিয়ম মেনে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত মাছ খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

কিভাবে নিরাপদে পাঙ্গাশ খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ বুজে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেবেন না।
পাঙ্গাশ কিনতে হলে—

  • বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ কিনুন
  • খুব তাজা মাছ বেছে নিন
  • রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন
  • সিদ্ধ, ঝোল বা হালকা মসলায় রান্না করাই সবচেয়ে নিরাপদ
  • অতিরিক্ত তেলে ভেজে খাওয়া এড়িয়ে চলুন

কারা সতর্ক থাকবেন

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে ভালোভাবে রান্না করা পাঙ্গাশ খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর পাঙ্গাশ খাওয়ার পর যদি কোনো অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব শেষে বলা যায়, পাঙ্গাশ মাছ নিজে থেকে ‘ভয়ের কারণ’ নয়। ভয়ের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত চাষ ও ভুল রান্নার পদ্ধতি। সচেতনভাবে কেনা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে পাঙ্গাশ মাছও হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ।

সূত্র : টিভি৯ বাংলা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

পাঙ্গাশ মাছ নিয়ে এত ভয় কেন? জানুন কারণ

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মাছ বাজারে গেলেই দেখা যায় বড় বড় পাঙ্গাশ মাছ। চোখে পড়ে বরফের ওপর সাজানো কাটা পাঙ্গাশ মাছও। দাম তুলনামূলক কম, কাঁটা কম, রান্নাও ঝামেলাহীন—এই কারণেই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে পাঙ্গাশ মাছ বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের কাছে এই মাছের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঙ্গাশ নিয়ে নানা ভয় ছড়াচ্ছে—কেউ বলছেন এই মাছ বিষে ভরা, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো পুষ্টিগুণই নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলোর ভিত্তি কতটা সত্য?

পাঙ্গাশ কি আদৌ অস্বাস্থ্যকর?

পাঙ্গাশ মূলত একটি চাষের মাছ। এটি দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন বেশি হয়, সেই কারণেই বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু দাম কম মানেই যে পুষ্টিগুণ কম, এমনটা নয়।

পাঙ্গাশ মাছে ভালো মাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাদের জন্য পাঙ্গাশ হতে পারে সহজলভ্য প্রোটিনের একটি উৎস।এ ছাড়া এই মাছে কিছু পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি না হলেও, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পাঙ্গাশে আয়রন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।তাহলে বিতর্কটা কোথায়?

সমস্যা মূলত মাছের চাষপদ্ধতি নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ দ্রুত বড় করতে অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি এসব উপাদান নিয়ম মেনে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত মাছ খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

কিভাবে নিরাপদে পাঙ্গাশ খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ বুজে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেবেন না।
পাঙ্গাশ কিনতে হলে—

  • বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ কিনুন
  • খুব তাজা মাছ বেছে নিন
  • রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন
  • সিদ্ধ, ঝোল বা হালকা মসলায় রান্না করাই সবচেয়ে নিরাপদ
  • অতিরিক্ত তেলে ভেজে খাওয়া এড়িয়ে চলুন

কারা সতর্ক থাকবেন

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে ভালোভাবে রান্না করা পাঙ্গাশ খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর পাঙ্গাশ খাওয়ার পর যদি কোনো অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব শেষে বলা যায়, পাঙ্গাশ মাছ নিজে থেকে ‘ভয়ের কারণ’ নয়। ভয়ের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত চাষ ও ভুল রান্নার পদ্ধতি। সচেতনভাবে কেনা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে পাঙ্গাশ মাছও হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ।

সূত্র : টিভি৯ বাংলা