ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

যমুনাতেই উঠছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ বার

চলতি সপ্তাহেই গঠিত হতে পারে নতুন সরকার। আর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সব দিক বিবেচনায় রাজধানীর মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করে বাসভবন ছাড়লেই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী ভবনটি প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিগত সরকারের সময় শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’ ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভবনটিকে ‘৩৬ জুলাই জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিকল্প বাসভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়- নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা, চলাচলের সুবিধা এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি এড়ানো। পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিক থেকেই ‘যমুনা’কে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৭ জুলাই সম্ভাব্য বাসভবন নিয়ে কাজ শুরু করে এবং ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় সোয়া তিন একর আয়তনের ‘যমুনা’ এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো

সমন্বিত পরিকল্পনায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ওই দুই বাংলোয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) নাহিদ উল মোস্তাক বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে ‘যমুনা’ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া শেরেবাংলা নগরে সাবেক ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা মাঠের জায়গাটিও প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় ছিল। তবে কমিটি সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুপারিশ করেনি। কারণ, সংসদ ভবনসংলগ্ন ওই এলাকা মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের নকশায় গড়ে উঠেছে। সেখানে নতুন বড় স্থাপনা নির্মাণ স্থাপত্যগত ও নকশাগত জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং সময়সাপেক্ষও হবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে শহীদ মঈনুল রোডের বাসভবনে থাকতেন। পরবর্তী সময়ে সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে বিএনপি জোটের বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের পথে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আভাস মিলেছে। বর্তমানে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৮৯ নম্বর রোডের বাসায় অবস্থান করছেন।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের পরপরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি নতুন সরকারের মন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য ৭১টি বাসা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী সেগুলো প্রস্তুত করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

যমুনাতেই উঠছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি সপ্তাহেই গঠিত হতে পারে নতুন সরকার। আর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সব দিক বিবেচনায় রাজধানীর মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করে বাসভবন ছাড়লেই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী ভবনটি প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিগত সরকারের সময় শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’ ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভবনটিকে ‘৩৬ জুলাই জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিকল্প বাসভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়- নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা, চলাচলের সুবিধা এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি এড়ানো। পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিক থেকেই ‘যমুনা’কে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৭ জুলাই সম্ভাব্য বাসভবন নিয়ে কাজ শুরু করে এবং ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় সোয়া তিন একর আয়তনের ‘যমুনা’ এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো

সমন্বিত পরিকল্পনায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ওই দুই বাংলোয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) নাহিদ উল মোস্তাক বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে ‘যমুনা’ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া শেরেবাংলা নগরে সাবেক ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা মাঠের জায়গাটিও প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় ছিল। তবে কমিটি সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুপারিশ করেনি। কারণ, সংসদ ভবনসংলগ্ন ওই এলাকা মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের নকশায় গড়ে উঠেছে। সেখানে নতুন বড় স্থাপনা নির্মাণ স্থাপত্যগত ও নকশাগত জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং সময়সাপেক্ষও হবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে শহীদ মঈনুল রোডের বাসভবনে থাকতেন। পরবর্তী সময়ে সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে বিএনপি জোটের বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের পথে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আভাস মিলেছে। বর্তমানে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৮৯ নম্বর রোডের বাসায় অবস্থান করছেন।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের পরপরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি নতুন সরকারের মন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য ৭১টি বাসা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী সেগুলো প্রস্তুত করা হবে।