ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

আমরা দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে : জামায়াত আমির

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫ বার

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই লুটপাট করেছেন। কেউ বেশি করেছেন, কেউ কম। গত ১৭ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি করে তারা বড় বড় কথা বলে। আমরা কথা দিচ্ছি, এক ইঞ্চির মাটির ওপর চাঁদাবাজির হাত কেউ বাড়াতে পারবে না। দুর্নীতির সকল রুট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না। আমরা দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহনাগর এ ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে তাদের কাউকে শান্তিতে থাকতে দেব না। মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করা হবে। সব টাকা উদ্ধার করে দেশের কোষাগারে জমা করা হবে। আমরা দায়িত্ব পেলে কারো ঘুষ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কেউ ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, ঘুষ খাওয়ার সাহসও পাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই আমি বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, রাজনীতি করেছি। আমি আজ জামায়াতের আমির নয়, আপনাদের সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা অনেককে সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে একবার আপনারা সুযোগ দিন। আমি কথা দিচ্ছি আমরা মালিক নই, আপনাদের পাহারাদার হয়ে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠন কর। আমরা চিংড়ির মতো হাঁটতে চাই না, আমরা সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আগামী ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস হবে ইনশাল্লাহ। ১৩ তারিখ একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যখন আমরা জালিমের হাত থেকে মুক্তি পেলাম, তখন আমরা মিছিল না করে, শুকরিয়া আদায় করে সেজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমরা সবাইকে বলেছিলাম আমরা মজলুমরা যেনো জালিম না হই। আমরা যেন অতীতের জালিমদের মতো না হই। আমাদের কথা যারা রেখেছেন তাদের অভিনন্দন।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আল্লাহর দান। আলেম উলামা, ছাত্র, সাংবাদিক, কামার-কুমার, কেউই বিগত ১৬ বছর জুলুম করা হয়েছে। আমাদের জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে, জেলে পুরা হয়েছে। একজন জালিমের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধ নেবে না। তবে আদালতে গিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করব।

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, সিলেটবাসীর জন্য সুপেয় পানি পাওয়াই এক আলাদিনের চেরাগের মতো। বসে বসে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা আসলেই ডুবে যায়, ভেসে যায় আবার শুকনা মৌসুমে নদীতে কোনো পানি থাকে না। এই সব সংকট সিলেটের নিত্যদিনের সঙ্গী।

হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিষয়ে আমির বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর-বাঁওড় এলাকা থেকে দেশের খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায় এই ইঁদুরগুলো আর ভাত কাটার সুযোগ পাবে না। জেলেদের নামে জলাশয় কারা নেয়, আমরা জানি। এসব রুখে দেওয়া হবে।

চা-বাগান শ্রমিকদের জীবন যাত্রা নিয়ে তিনি আরও বলেন, এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।

সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ গাঁজায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ।

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করব।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেব। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

লন্ডনের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লন্ডনে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন। আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের তাবা মেলে সামনে আগাতে চাই। বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।

নদী ও পরিবেশ সংকট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও মরে আছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক দেওয়া হয় না। তার পেট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। নদী শাসন নয় নদীবান্ধব বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। সুরমা-কুশিয়ারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায় সেই সুরমা-কুশিয়ারা বানানো হবে।

নিজের এক্স একাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চুরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলব।

বক্তব্য শেষে সিলেট জেলার ৬টি আসনের ৬ প্রার্থী ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা, দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীক নিয়ে স্লোগান তুলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা যাদের পরিচয় করিয়ে দিলাম, তাদের দেখতে কি চাঁদাবাজ মনে হয়, দুর্নীতিবাজ মনে হয়? তারা সবাই ভালো মানুষ, তাই তাদের হাতে ইনসাফের মার্কা তুলে দিলাম।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের যৌথ পরিচালনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান।

আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, জেলা জামায়াতের আমির ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা লুকমান আহমদ, জামায়াত নেতা হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মাওলানা ইকবাল হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

আমরা দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে : জামায়াত আমির

আপডেট টাইম : ১২:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই লুটপাট করেছেন। কেউ বেশি করেছেন, কেউ কম। গত ১৭ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি করে তারা বড় বড় কথা বলে। আমরা কথা দিচ্ছি, এক ইঞ্চির মাটির ওপর চাঁদাবাজির হাত কেউ বাড়াতে পারবে না। দুর্নীতির সকল রুট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না। আমরা দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহনাগর এ ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে তাদের কাউকে শান্তিতে থাকতে দেব না। মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করা হবে। সব টাকা উদ্ধার করে দেশের কোষাগারে জমা করা হবে। আমরা দায়িত্ব পেলে কারো ঘুষ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কেউ ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, ঘুষ খাওয়ার সাহসও পাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই আমি বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, রাজনীতি করেছি। আমি আজ জামায়াতের আমির নয়, আপনাদের সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা অনেককে সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে একবার আপনারা সুযোগ দিন। আমি কথা দিচ্ছি আমরা মালিক নই, আপনাদের পাহারাদার হয়ে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠন কর। আমরা চিংড়ির মতো হাঁটতে চাই না, আমরা সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আগামী ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস হবে ইনশাল্লাহ। ১৩ তারিখ একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যখন আমরা জালিমের হাত থেকে মুক্তি পেলাম, তখন আমরা মিছিল না করে, শুকরিয়া আদায় করে সেজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমরা সবাইকে বলেছিলাম আমরা মজলুমরা যেনো জালিম না হই। আমরা যেন অতীতের জালিমদের মতো না হই। আমাদের কথা যারা রেখেছেন তাদের অভিনন্দন।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আল্লাহর দান। আলেম উলামা, ছাত্র, সাংবাদিক, কামার-কুমার, কেউই বিগত ১৬ বছর জুলুম করা হয়েছে। আমাদের জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে, জেলে পুরা হয়েছে। একজন জালিমের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধ নেবে না। তবে আদালতে গিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করব।

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, সিলেটবাসীর জন্য সুপেয় পানি পাওয়াই এক আলাদিনের চেরাগের মতো। বসে বসে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা আসলেই ডুবে যায়, ভেসে যায় আবার শুকনা মৌসুমে নদীতে কোনো পানি থাকে না। এই সব সংকট সিলেটের নিত্যদিনের সঙ্গী।

হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিষয়ে আমির বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর-বাঁওড় এলাকা থেকে দেশের খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায় এই ইঁদুরগুলো আর ভাত কাটার সুযোগ পাবে না। জেলেদের নামে জলাশয় কারা নেয়, আমরা জানি। এসব রুখে দেওয়া হবে।

চা-বাগান শ্রমিকদের জীবন যাত্রা নিয়ে তিনি আরও বলেন, এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।

সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ গাঁজায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ।

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করব।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেব। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

লন্ডনের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লন্ডনে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন। আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের তাবা মেলে সামনে আগাতে চাই। বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।

নদী ও পরিবেশ সংকট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও মরে আছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক দেওয়া হয় না। তার পেট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। নদী শাসন নয় নদীবান্ধব বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। সুরমা-কুশিয়ারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায় সেই সুরমা-কুশিয়ারা বানানো হবে।

নিজের এক্স একাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চুরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলব।

বক্তব্য শেষে সিলেট জেলার ৬টি আসনের ৬ প্রার্থী ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা, দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীক নিয়ে স্লোগান তুলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা যাদের পরিচয় করিয়ে দিলাম, তাদের দেখতে কি চাঁদাবাজ মনে হয়, দুর্নীতিবাজ মনে হয়? তারা সবাই ভালো মানুষ, তাই তাদের হাতে ইনসাফের মার্কা তুলে দিলাম।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের যৌথ পরিচালনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান।

আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, জেলা জামায়াতের আমির ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা লুকমান আহমদ, জামায়াত নেতা হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মাওলানা ইকবাল হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম।