বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এই নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ দুই যুগ পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে পেরে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বলতেন—বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছেও বাংলাদেশই প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের জন্য।
তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ধর্ম দিয়ে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নাগরিকদের মূল্যায়ন করা হবে।
জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’—যার আওতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকারিভাবে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করা, বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুত চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল ও তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এই নির্বাচনে মানুষ তাদের কেড়ে নেওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করবে।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলীয় দাসত্ব নয়—জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
Reporter Name 




















