ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘ঘনিষ্ঠতা’, ভারতের লোকসভায় আলোচনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। যেগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।

তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কিনা। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।

এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কিনা।

জবাবে তিনি বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?

জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।

সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘ঘনিষ্ঠতা’, ভারতের লোকসভায় আলোচনা

আপডেট টাইম : ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। যেগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।

তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কিনা। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।

এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কিনা।

জবাবে তিনি বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?

জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।

সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।