কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। দলটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ভূইয়া শাহীনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মোট আটজন জনপ্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। এতে তাড়াইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।
গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও করমর্দনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তারা।
জহিরুল ইসলাম ভূইয়া শাহীনের সঙ্গে বিএনপিতে যোগদান করেন তাড়াইল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছয়জন বর্তমান ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা হলেন—
দামিহা ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া,
জাওয়ার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রতন,
ধলা ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মবিন,
তাড়াইল–সাচাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইমদাদ খান নওশাদ,
দিগদাইড় ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং
তালজাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান আশিক।
এ ছাড়া যোগদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
নবাগত নেতারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আদর্শই একমাত্র ভরসা। তারা জানান, তাড়াইল উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করতে তারা মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টি থেকে একযোগে এতসংখ্যক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতার বিএনপিতে যোগদান তাড়াইলের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলায় রাজনৈতিক পালাবদল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।
Reporter Name 























