ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

পাহাড়ি বনের গহিনে আবিষ্কৃত হলো অজানা ফুলগাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ বার

পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চলের নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নতুন বিস্ময়। নিয়মিত উদ্ভিদ জরিপের সময় গবেষকদের চোখে ধরা পড়ল এমন একটি ফুলগাছ, যার অস্তিত্ব আগে কখনো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়নি। সম্পূর্ণ নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ‘হোয়া নাগায়েনসিস’ (Hoya nagaensis)।

নতুন প্রজাতিটির সন্ধান মিলেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ফেক জেলার কাভুনহৌ কমিউনিটি রিজার্ভড ফরেস্টে। রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের এই উচ্চাঞ্চলীয় বনটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখানেই নিয়মিত উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা গাছটির উপস্থিতি শনাক্ত করেন।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হোয়া গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এই গণের গাছগুলোর ফুল সাধারণত তারকার মতো আকৃতির হয় এবং কাণ্ড বা পাতা কাটলে দুধের মতো সাদা আঠালো রস নিঃসৃত হয়। উদ্ভিদটি অ্যাপোসাইনেসি বা মিল্কউইড পরিবারভুক্ত, যা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভিদগোষ্ঠী।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. গ্যাতি ইয়াম। তার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ভিয়েনেইতে-ও কোজা ও জয়নাথ পেগু। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউ গার্ডেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কিউ বুলেটিন’-এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের SUPYF প্রকল্প থেকে এই গবেষণায় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে আবিষ্কারের আনন্দের পাশেই রয়েছে উদ্বেগ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি স্থানে এই প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় গাছটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জুমচাষ এবং বনাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ এর আবাসস্থল ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে প্রজাতিটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার একদিকে যেমন ওই অঞ্চলের বনাঞ্চলে এখনও বহু অজানা উদ্ভিদ প্রজাতি লুকিয়ে থাকার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পরিচালিত কমিউনিটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরে। প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, ‘হোয়া নাগায়েনসিস’-এর আবিষ্কার তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

পাহাড়ি বনের গহিনে আবিষ্কৃত হলো অজানা ফুলগাছ

আপডেট টাইম : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চলের নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নতুন বিস্ময়। নিয়মিত উদ্ভিদ জরিপের সময় গবেষকদের চোখে ধরা পড়ল এমন একটি ফুলগাছ, যার অস্তিত্ব আগে কখনো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়নি। সম্পূর্ণ নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ‘হোয়া নাগায়েনসিস’ (Hoya nagaensis)।

নতুন প্রজাতিটির সন্ধান মিলেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ফেক জেলার কাভুনহৌ কমিউনিটি রিজার্ভড ফরেস্টে। রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের এই উচ্চাঞ্চলীয় বনটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখানেই নিয়মিত উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা গাছটির উপস্থিতি শনাক্ত করেন।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হোয়া গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এই গণের গাছগুলোর ফুল সাধারণত তারকার মতো আকৃতির হয় এবং কাণ্ড বা পাতা কাটলে দুধের মতো সাদা আঠালো রস নিঃসৃত হয়। উদ্ভিদটি অ্যাপোসাইনেসি বা মিল্কউইড পরিবারভুক্ত, যা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভিদগোষ্ঠী।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. গ্যাতি ইয়াম। তার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ভিয়েনেইতে-ও কোজা ও জয়নাথ পেগু। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউ গার্ডেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কিউ বুলেটিন’-এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের SUPYF প্রকল্প থেকে এই গবেষণায় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে আবিষ্কারের আনন্দের পাশেই রয়েছে উদ্বেগ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি স্থানে এই প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় গাছটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জুমচাষ এবং বনাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ এর আবাসস্থল ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে প্রজাতিটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার একদিকে যেমন ওই অঞ্চলের বনাঞ্চলে এখনও বহু অজানা উদ্ভিদ প্রজাতি লুকিয়ে থাকার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পরিচালিত কমিউনিটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরে। প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, ‘হোয়া নাগায়েনসিস’-এর আবিষ্কার তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ।