ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

পাহাড়ি বনের গহিনে আবিষ্কৃত হলো অজানা ফুলগাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪২ বার

পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চলের নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নতুন বিস্ময়। নিয়মিত উদ্ভিদ জরিপের সময় গবেষকদের চোখে ধরা পড়ল এমন একটি ফুলগাছ, যার অস্তিত্ব আগে কখনো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়নি। সম্পূর্ণ নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ‘হোয়া নাগায়েনসিস’ (Hoya nagaensis)।

নতুন প্রজাতিটির সন্ধান মিলেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ফেক জেলার কাভুনহৌ কমিউনিটি রিজার্ভড ফরেস্টে। রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের এই উচ্চাঞ্চলীয় বনটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখানেই নিয়মিত উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা গাছটির উপস্থিতি শনাক্ত করেন।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হোয়া গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এই গণের গাছগুলোর ফুল সাধারণত তারকার মতো আকৃতির হয় এবং কাণ্ড বা পাতা কাটলে দুধের মতো সাদা আঠালো রস নিঃসৃত হয়। উদ্ভিদটি অ্যাপোসাইনেসি বা মিল্কউইড পরিবারভুক্ত, যা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভিদগোষ্ঠী।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. গ্যাতি ইয়াম। তার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ভিয়েনেইতে-ও কোজা ও জয়নাথ পেগু। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউ গার্ডেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কিউ বুলেটিন’-এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের SUPYF প্রকল্প থেকে এই গবেষণায় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে আবিষ্কারের আনন্দের পাশেই রয়েছে উদ্বেগ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি স্থানে এই প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় গাছটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জুমচাষ এবং বনাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ এর আবাসস্থল ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে প্রজাতিটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার একদিকে যেমন ওই অঞ্চলের বনাঞ্চলে এখনও বহু অজানা উদ্ভিদ প্রজাতি লুকিয়ে থাকার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পরিচালিত কমিউনিটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরে। প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, ‘হোয়া নাগায়েনসিস’-এর আবিষ্কার তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

পাহাড়ি বনের গহিনে আবিষ্কৃত হলো অজানা ফুলগাছ

আপডেট টাইম : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চলের নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নতুন বিস্ময়। নিয়মিত উদ্ভিদ জরিপের সময় গবেষকদের চোখে ধরা পড়ল এমন একটি ফুলগাছ, যার অস্তিত্ব আগে কখনো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়নি। সম্পূর্ণ নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ‘হোয়া নাগায়েনসিস’ (Hoya nagaensis)।

নতুন প্রজাতিটির সন্ধান মিলেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ফেক জেলার কাভুনহৌ কমিউনিটি রিজার্ভড ফরেস্টে। রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের এই উচ্চাঞ্চলীয় বনটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখানেই নিয়মিত উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা গাছটির উপস্থিতি শনাক্ত করেন।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হোয়া গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এই গণের গাছগুলোর ফুল সাধারণত তারকার মতো আকৃতির হয় এবং কাণ্ড বা পাতা কাটলে দুধের মতো সাদা আঠালো রস নিঃসৃত হয়। উদ্ভিদটি অ্যাপোসাইনেসি বা মিল্কউইড পরিবারভুক্ত, যা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভিদগোষ্ঠী।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. গ্যাতি ইয়াম। তার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ভিয়েনেইতে-ও কোজা ও জয়নাথ পেগু। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউ গার্ডেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কিউ বুলেটিন’-এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের SUPYF প্রকল্প থেকে এই গবেষণায় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে আবিষ্কারের আনন্দের পাশেই রয়েছে উদ্বেগ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি স্থানে এই প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় গাছটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জুমচাষ এবং বনাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ এর আবাসস্থল ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে প্রজাতিটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার একদিকে যেমন ওই অঞ্চলের বনাঞ্চলে এখনও বহু অজানা উদ্ভিদ প্রজাতি লুকিয়ে থাকার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পরিচালিত কমিউনিটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরে। প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, ‘হোয়া নাগায়েনসিস’-এর আবিষ্কার তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ।