ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করবে বিএনপি: তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। বিএনপি জানে কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়। খালেদা জিয়ার সময় দেশে দুর্নীতি তলানিতে ছিল। চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেনি?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী প্রচারণার সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোটের অধিকার না থাকায় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধান হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হত। মানুষ চায় অসুস্থ হলে তারা যেন সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। মানুষ মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা চায়।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে; বিএনপি তাদের বক্তব্য যে দুর্নীতিতে বলে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি?

জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

উল্লেখ্য, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার শাসনামল সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল। যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেট টাইম : ১০:৪২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। বিএনপি জানে কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়। খালেদা জিয়ার সময় দেশে দুর্নীতি তলানিতে ছিল। চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেনি?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী প্রচারণার সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোটের অধিকার না থাকায় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধান হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হত। মানুষ চায় অসুস্থ হলে তারা যেন সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। মানুষ মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা চায়।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে; বিএনপি তাদের বক্তব্য যে দুর্নীতিতে বলে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি?

জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

উল্লেখ্য, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার শাসনামল সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল। যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!