ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মাটিতে ইতিহাস-আবেগের পুনর্মিলন : তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩ বার

Oplus_16908288

চট্টগ্রাম শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়—এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর রাজনৈতিক ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই আবেগের কথাই তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই বেগম খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক।”

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুনভাবে সুরক্ষা দিয়েছে। এখন দেশের মানুষ এমন পরিবর্তন চায়, যা শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতির সমালোচনায় না গিয়ে বাস্তব উন্নয়নের রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সমালোচনা করে মানুষের পেট ভরবে না। বিএনপি এমন দল, যারা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের জন্য কাজ করেছে।”

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করে তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল-নালা দখল ও ভরাটই এর মূল কারণ। বিএনপি সরকার গঠন করলে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এ সময় তিনি জনতার কাছে আহ্বান জানান—চট্টগ্রামকে বাঁচাতে খাল কাটার আন্দোলনে শামিল হওয়ার।

চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির শাসনামলেই চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে নতুন নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ভোটারদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে—এবার তা রুখে দিতে হবে।”
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সকাল থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। রোববার সকালে তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেওয়ার পর তিনি মহাসমাবেশে যোগ দেন। সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রেখে পুরো এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

চট্টগ্রামের মাটিতে ইতিহাস-আবেগের পুনর্মিলন : তারেক রহমান

আপডেট টাইম : ০২:২০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়—এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর রাজনৈতিক ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই আবেগের কথাই তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই বেগম খালেদা জিয়া ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক।”

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুনভাবে সুরক্ষা দিয়েছে। এখন দেশের মানুষ এমন পরিবর্তন চায়, যা শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতির সমালোচনায় না গিয়ে বাস্তব উন্নয়নের রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সমালোচনা করে মানুষের পেট ভরবে না। বিএনপি এমন দল, যারা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের জন্য কাজ করেছে।”

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করে তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল-নালা দখল ও ভরাটই এর মূল কারণ। বিএনপি সরকার গঠন করলে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এ সময় তিনি জনতার কাছে আহ্বান জানান—চট্টগ্রামকে বাঁচাতে খাল কাটার আন্দোলনে শামিল হওয়ার।

চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির শাসনামলেই চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে নতুন নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ভোটারদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে—এবার তা রুখে দিতে হবে।”
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সকাল থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। রোববার সকালে তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেওয়ার পর তিনি মহাসমাবেশে যোগ দেন। সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রেখে পুরো এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।