ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

নির্বাচনী প্রচারণায় সারাদেশ প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে দেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১ বার

মাঘ মাসে দেশে হঠাৎ বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এ বন্যা উজান থেকে নেমে আসা পানি বা বৃষ্টির পানির বন্যা নয়; নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির বন্যা। কার্যত প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছেন ভোটাররা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব প্রতিশ্রুতির কিছু কিছু সময়োপযোগী হলেও কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি ইশপের গল্পের মহিলার ‘ছাগলের বাচ্চা হলে উট কোরবানি দেয়া’ মান্নতের মতোই। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন। তবে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম অবস্থা বিরাজমান। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উল্লাস-উচ্ছ্বাস চলছে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, ৯ বাম দলের গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট কোনো দল ও জোট এখনো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি। তবে সব দলই ভোটারদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসাচ্ছে।

প্রায় দেড় যুগ পর নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজনে সর্বত্রই চলছে উৎসবের আমেজ। কয়েক জায়গায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ। প্রার্থীদের পোস্টার না থাকায় পরিবেশও স্বাভাবিক। ভোটারদের টানতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সমাবেশ করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরছেন। একইভাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও সারাদেশ সফর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্চেন। প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। স্থানীয় সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে সাত জেলায় সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত শুক্রবার ঢাকায় ফিরে ভাসানটেকে নিজ আসনে নির্বাচনী সভা করেন। সভায় ভোটারদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি, কৃষকদের কৃষিকার্ডের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সিলেটের পর নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রামে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। অতপর ফেনীতে পাইলট স্কুল খেলার মাঠে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠ এবং দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন।

এরপর যাত্রাপথে তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই সফর শেষ করে গুলশানের বাসায় ফিরবেন। তার নির্বাচনী প্রচারণা জন্য বরিশাল, উত্তরাঞ্চলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে নির্বাচনী সমাবেশ শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অতপর দিনাজপুর, রংপুর, নিলফামারী তথা চার জেলায় জনসমাবেশ করেন। গতকাল গাইবান্ধা, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় সমাবেশ করেন। এসব সমাবেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। নারী প্রার্থী না দিলেও জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ভাগ্যের পরিবর্তনে ব্যাপক উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের সাতটি বিভাগ ও বিভিন্ন জেলায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় করেছি। সেই মতবিনিময়ে মনে হয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রার্থীদের অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত জনগণের মুখ থেকেই তাদের সমস্যার কথা জানতে চান। তার প্রত্যাশা শুনে প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা হবে এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডকে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট কেনার এক ধরনের কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ বিএনপি বিভিন্ন মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। সেগুলো বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা নেই। তারা জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন না। সোশ্যাল সেফটিনেস (সামাজিক নিরাপত্তা) নিয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে অনেক প্রকল্প বা কাজ বাংলাদেশে বিদ্যমান। মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভাতা সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছে। তার মধ্যেই আবার এক-দুটি কার্ড দিয়ে কিছু টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিএনপির প্রতিশ্রুতিকে ‘ধোঁকাবাজি’ ও ‘প্রতারণা’ অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের কথা বলে ভোট কেনার এক ধরনের কৌশল তারা করছেন। কিন্তু আমরা যেটুকু মাঠে নেমে বুঝতে পারছি, মানুষ তাদেরকে অতটা রেসপন্স (সাড়া) করছে না।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে সমাজের বৈষম্য, দুঃশাসন আর দুর্নীতি বিদায় করে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল শনিবার গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জের নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। সেখানে তিনি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেন, আপনারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠালে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হিফাজত করব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেয়ার চেষ্টা করব। তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেবো না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই।

বড় দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ না করলেও ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তিনি ঢাকার নাগরিকদের জন্য ‘নো সার্ভিস, নো বিল’, ‘মিনি-হাসপাতাল’ কর্মসূচি দেন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নিজের ভেরিফায়েড পেজে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। এতে তিনি গ্যাস সঙ্কটের সমাধান, সড়ক সংস্কার ও পানিবদ্ধতা নিরসন; চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; মাদক রোধ; স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ; উদ্যোক্তাদের জন্য সিডিং ফান্ডের ব্যবস্থা এবং সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব সবুজবাগে উঠান বৈঠক বলেন, এই আসনকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। সুরিটোলা স্কুলের সামনে গণসংযোগকালে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সঙ্কট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পচা ডিম ও গরম পানি নিক্ষেপের মুখে পড়েন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের ধরে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ শহীদদের আদর্শ ধারণ করে পথচলার অঙ্গীকার করেন। একই আসনে মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের সামনে প্রচার চালান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক। ঢাকা-১১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারি মাসউদ রামপুরার প্রচারণায় দুর্নীতি, জুলুম, অত্যাচার, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোট খুলনা-১ আসনে প্রার্থী করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণনন্দী। তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। হিন্দু ভোট পেতে জামায়াত নানা চালাকি করছে। অথচ বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেন গতকাল ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ৮০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী ও অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বিধর্মী হিন্দুরা কি আল-কুরআন চান, না বেদায়াত চান? আল-কুরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চস্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে, এই দেশ মুসলমানের। কাজেই কোনো বিধর্মী সংসদে যেতে পারবে না।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন গতকাল নওহাটা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন।

এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনী ট্রেন এখন চলমান। এই ট্রেন আল্লাহ ছাড়া কেউ থামাতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, পবা-মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন এবং তারা এখন ঐক্যবদ্ধ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল জনগণের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে খেলা করছে। প্রশাসনের ভেতরেও কিছু আওয়ামী মনোভাবাপন্ন সদস্য ও কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছেন বলে আমরা জানতে পারছি। এবার নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা টালবাহানা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

ধর্মীয় বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করার সমালোচনা করে মিলন বলেন, কিছু দল নির্বাচন নিয়ে খেলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মানুষের মধ্যে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। মানুষের ঈমান-আমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড প্রমুখ।

স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা থেকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘদিন পরে মহম্মদপুর বিএনপির সকল নেতাকের্মী এক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল বের করে। মিছিলে নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু, আখতার হোসেন, গোলাম আজম সাবু, মিছিলে অংশগহণ করে।
এসময় মাগুরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরীকে নির্বাচিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব এস এম রবিউল ইসলাম নয়ন।

স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার সুযোগ করে দিন। বিএনপি হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। এ দলের মধ্যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নেই।

গত শুক্রবার ও শনিবার দিনভর ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের চারবাড়িয়া বাজার, শীলা বাজার ও মাইজবাড়িসহ বিভিন্ন গ্রামে ধানের র্শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ মো. ইসাহাক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ প্রমুখ।

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। গতকাল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চর পলি খামারপাড়া ও কাকুয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু হয়। এদিন চর পলি খামারপাড়ায় একাধিক উঠান বৈঠক, পথসভা এবং শাহরিয়ার হাসান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কাকুয়া ইউনিয়মের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করছেন। এ সময় তিনি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করেন।

এদিকে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের জামায়ত ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি মিছিল বের হয়।
রাঙামাটি জেলা সংবাদদাতা জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, রাঙামাটির সব উপজেলা ও ইউনিয়নে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গতকাল কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান ও ঘাগড়া বাজারে আয়োজিত পৃথক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, সহ সভাপতি জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো প্রমুখ।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হারুন অর রশীদ দিনব্যাপী কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জনসংযোগ, প্রচারণা ও পথসভা করেছেন। গতকাল কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মৌকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণসংযোগ দিয়ে শুরু হয় প্রচারণা।
এ সময় সাথে ছিলেন কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খাঁন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কেএম আইনুল হাবিব, কালিকাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুরুজ আলী মুন্সী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতা, রতনদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন মিঞা প্রমুখ নেতা-কর্মীরা।

ভোলা জেলা সংবাদদাতা জানান, কোনো হিংসা নয়, কোনো বিদ্বেশ নয়; বিএনপি-বিজেপি কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে কাজ করবো। আমি নির্বাচিত হলে ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার সন্ত্রাসীদের থাকতে দেয়া হবে না। আমার মরহুম বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু কোনোদিন আপনাদের সাথে অন্যায় করেনি, আমিও করবো না কথা দিলাম। গতকাল ভোলার নতুন বাজার বিজেপির কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় বাংলাদেশ বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একথা বলেন।

আমার পূর্বে এই ভোলায় বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে নমিনেশন দিয়েছিল। চাচা ১৭ বছর ভোলায় বিএনপির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর অনেক ত্যাগ আছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, জীবন চলে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব তাদেরকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করা। বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই ঐক্য ছাড়া বিকল্প নাই।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বাবু সোমনাথ দে এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি শিকদার ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ জব্বারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডাসার (মাদারীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত এমপি প্রার্থী মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম কালকিনিতে দাঁড়িপাল্লার প্রচার মিছিল শেষে কালকিনি সদর ফাজিল মাদরাসা চত্বরে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এনামুল হক আমীর জামায়েতে ইসলামী কালকিনি উপজেলা, অধ্যাপক কে.এম. ইয়াদুল হক জেলা নায়েবে আমির জামায়াতে ইসলামী মাদারীপুর প্রমুখ।

লালপুর (নাটোর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে এমপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের সাইপাড়া, কচুয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ ভোটারেদ সাথে কুশল বিনিময় ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়ন কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে দুটি গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছেন। তিনি প্রতিটি নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগে নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন বলে দাবি তাদের।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘একটা দল ইসলাম ও বেহেশতের কথা বলে সহজ সরল ধর্মভীরু ভোটারদের কাছে গিয়ে নানা কৌশলে ভোট চাচ্ছেন, এদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। গত শুক্রবার রাতে কলাপাড়া পৌরশহরের মিনি মার্কেটে পৌর বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

কলাপাড়া পৌরশহরের মিনি মার্কেটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল হক পনির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু প্রমুখ।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজবাড়ী ১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া পদ্মা সেতুও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে হলে এই অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নসহ প্রতিটি বালুর কণা সোনায় পরিণত হবে। গত শুক্রবার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে নির্বাচনীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোহন ম-লের সভাপতিত্বে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খানের সঞ্চালনায় পথ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে প্রতিপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সে চেষ্টা সফল হবে না। গত শুক্রবার ফটিকছড়ির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কিছু রাজনৈতিক পক্ষ তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকা- প্রত্যাশিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)
‎ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ গতকাল উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ এবং পথসভা করেছেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, জেলা যুবদলের সদস্য আ. মতিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক ১নং সদস্য এমএ হান্নান তার প্রতীক চিংড়ির সমর্থনে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন এবং গণসংযোগে অংশ নেন।

বাহুবল (হবিগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। নির্বাচনী মাঠে তাকে কেন্দ্র করে চলছে টানা গণসংযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা। এই প্রচারণায় তার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় জোটের ভোটসমীকরণ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বাস্তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত দুই প্রার্থীকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, ত্রিমুখী লড়াইয়ের আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হবিগঞ্জ-১ আসনে মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে ড. রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাত মিয়াকে কেন্দ্র করেই। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জেলাজুড়ে কৌতূহল ও আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

নির্বাচনী প্রচারণায় সারাদেশ প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে দেশ

আপডেট টাইম : ১০:০১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মাঘ মাসে দেশে হঠাৎ বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এ বন্যা উজান থেকে নেমে আসা পানি বা বৃষ্টির পানির বন্যা নয়; নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির বন্যা। কার্যত প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছেন ভোটাররা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব প্রতিশ্রুতির কিছু কিছু সময়োপযোগী হলেও কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি ইশপের গল্পের মহিলার ‘ছাগলের বাচ্চা হলে উট কোরবানি দেয়া’ মান্নতের মতোই। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন। তবে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম অবস্থা বিরাজমান। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উল্লাস-উচ্ছ্বাস চলছে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, ৯ বাম দলের গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট কোনো দল ও জোট এখনো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি। তবে সব দলই ভোটারদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসাচ্ছে।

প্রায় দেড় যুগ পর নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজনে সর্বত্রই চলছে উৎসবের আমেজ। কয়েক জায়গায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ। প্রার্থীদের পোস্টার না থাকায় পরিবেশও স্বাভাবিক। ভোটারদের টানতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সমাবেশ করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরছেন। একইভাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও সারাদেশ সফর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্চেন। প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। স্থানীয় সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে সাত জেলায় সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত শুক্রবার ঢাকায় ফিরে ভাসানটেকে নিজ আসনে নির্বাচনী সভা করেন। সভায় ভোটারদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি, কৃষকদের কৃষিকার্ডের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সিলেটের পর নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রামে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। অতপর ফেনীতে পাইলট স্কুল খেলার মাঠে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠ এবং দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন।

এরপর যাত্রাপথে তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই সফর শেষ করে গুলশানের বাসায় ফিরবেন। তার নির্বাচনী প্রচারণা জন্য বরিশাল, উত্তরাঞ্চলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে নির্বাচনী সমাবেশ শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অতপর দিনাজপুর, রংপুর, নিলফামারী তথা চার জেলায় জনসমাবেশ করেন। গতকাল গাইবান্ধা, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় সমাবেশ করেন। এসব সমাবেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। নারী প্রার্থী না দিলেও জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ভাগ্যের পরিবর্তনে ব্যাপক উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের সাতটি বিভাগ ও বিভিন্ন জেলায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় করেছি। সেই মতবিনিময়ে মনে হয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রার্থীদের অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত জনগণের মুখ থেকেই তাদের সমস্যার কথা জানতে চান। তার প্রত্যাশা শুনে প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা হবে এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডকে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট কেনার এক ধরনের কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ বিএনপি বিভিন্ন মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। সেগুলো বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা নেই। তারা জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন না। সোশ্যাল সেফটিনেস (সামাজিক নিরাপত্তা) নিয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে অনেক প্রকল্প বা কাজ বাংলাদেশে বিদ্যমান। মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভাতা সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছে। তার মধ্যেই আবার এক-দুটি কার্ড দিয়ে কিছু টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিএনপির প্রতিশ্রুতিকে ‘ধোঁকাবাজি’ ও ‘প্রতারণা’ অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের কথা বলে ভোট কেনার এক ধরনের কৌশল তারা করছেন। কিন্তু আমরা যেটুকু মাঠে নেমে বুঝতে পারছি, মানুষ তাদেরকে অতটা রেসপন্স (সাড়া) করছে না।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে সমাজের বৈষম্য, দুঃশাসন আর দুর্নীতি বিদায় করে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল শনিবার গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জের নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। সেখানে তিনি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেন, আপনারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠালে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হিফাজত করব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেয়ার চেষ্টা করব। তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেবো না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই।

বড় দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ না করলেও ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তিনি ঢাকার নাগরিকদের জন্য ‘নো সার্ভিস, নো বিল’, ‘মিনি-হাসপাতাল’ কর্মসূচি দেন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নিজের ভেরিফায়েড পেজে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। এতে তিনি গ্যাস সঙ্কটের সমাধান, সড়ক সংস্কার ও পানিবদ্ধতা নিরসন; চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; মাদক রোধ; স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ; উদ্যোক্তাদের জন্য সিডিং ফান্ডের ব্যবস্থা এবং সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব সবুজবাগে উঠান বৈঠক বলেন, এই আসনকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। সুরিটোলা স্কুলের সামনে গণসংযোগকালে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সঙ্কট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পচা ডিম ও গরম পানি নিক্ষেপের মুখে পড়েন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের ধরে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ শহীদদের আদর্শ ধারণ করে পথচলার অঙ্গীকার করেন। একই আসনে মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের সামনে প্রচার চালান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক। ঢাকা-১১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারি মাসউদ রামপুরার প্রচারণায় দুর্নীতি, জুলুম, অত্যাচার, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোট খুলনা-১ আসনে প্রার্থী করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণনন্দী। তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। হিন্দু ভোট পেতে জামায়াত নানা চালাকি করছে। অথচ বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেন গতকাল ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ৮০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী ও অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বিধর্মী হিন্দুরা কি আল-কুরআন চান, না বেদায়াত চান? আল-কুরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চস্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে, এই দেশ মুসলমানের। কাজেই কোনো বিধর্মী সংসদে যেতে পারবে না।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন গতকাল নওহাটা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন।

এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনী ট্রেন এখন চলমান। এই ট্রেন আল্লাহ ছাড়া কেউ থামাতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, পবা-মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন এবং তারা এখন ঐক্যবদ্ধ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল জনগণের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে খেলা করছে। প্রশাসনের ভেতরেও কিছু আওয়ামী মনোভাবাপন্ন সদস্য ও কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছেন বলে আমরা জানতে পারছি। এবার নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা টালবাহানা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

ধর্মীয় বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করার সমালোচনা করে মিলন বলেন, কিছু দল নির্বাচন নিয়ে খেলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মানুষের মধ্যে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। মানুষের ঈমান-আমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড প্রমুখ।

স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা থেকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘদিন পরে মহম্মদপুর বিএনপির সকল নেতাকের্মী এক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল বের করে। মিছিলে নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু, আখতার হোসেন, গোলাম আজম সাবু, মিছিলে অংশগহণ করে।
এসময় মাগুরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরীকে নির্বাচিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব এস এম রবিউল ইসলাম নয়ন।

স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার সুযোগ করে দিন। বিএনপি হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। এ দলের মধ্যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নেই।

গত শুক্রবার ও শনিবার দিনভর ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের চারবাড়িয়া বাজার, শীলা বাজার ও মাইজবাড়িসহ বিভিন্ন গ্রামে ধানের র্শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ মো. ইসাহাক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ প্রমুখ।

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। গতকাল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চর পলি খামারপাড়া ও কাকুয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু হয়। এদিন চর পলি খামারপাড়ায় একাধিক উঠান বৈঠক, পথসভা এবং শাহরিয়ার হাসান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কাকুয়া ইউনিয়মের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করছেন। এ সময় তিনি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করেন।

এদিকে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের জামায়ত ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি মিছিল বের হয়।
রাঙামাটি জেলা সংবাদদাতা জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, রাঙামাটির সব উপজেলা ও ইউনিয়নে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গতকাল কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান ও ঘাগড়া বাজারে আয়োজিত পৃথক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, সহ সভাপতি জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো প্রমুখ।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হারুন অর রশীদ দিনব্যাপী কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জনসংযোগ, প্রচারণা ও পথসভা করেছেন। গতকাল কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মৌকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণসংযোগ দিয়ে শুরু হয় প্রচারণা।
এ সময় সাথে ছিলেন কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খাঁন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কেএম আইনুল হাবিব, কালিকাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুরুজ আলী মুন্সী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতা, রতনদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন মিঞা প্রমুখ নেতা-কর্মীরা।

ভোলা জেলা সংবাদদাতা জানান, কোনো হিংসা নয়, কোনো বিদ্বেশ নয়; বিএনপি-বিজেপি কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে কাজ করবো। আমি নির্বাচিত হলে ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার সন্ত্রাসীদের থাকতে দেয়া হবে না। আমার মরহুম বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু কোনোদিন আপনাদের সাথে অন্যায় করেনি, আমিও করবো না কথা দিলাম। গতকাল ভোলার নতুন বাজার বিজেপির কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় বাংলাদেশ বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একথা বলেন।

আমার পূর্বে এই ভোলায় বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে নমিনেশন দিয়েছিল। চাচা ১৭ বছর ভোলায় বিএনপির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর অনেক ত্যাগ আছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, জীবন চলে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব তাদেরকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করা। বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই ঐক্য ছাড়া বিকল্প নাই।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বাবু সোমনাথ দে এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি শিকদার ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ জব্বারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডাসার (মাদারীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত এমপি প্রার্থী মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম কালকিনিতে দাঁড়িপাল্লার প্রচার মিছিল শেষে কালকিনি সদর ফাজিল মাদরাসা চত্বরে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এনামুল হক আমীর জামায়েতে ইসলামী কালকিনি উপজেলা, অধ্যাপক কে.এম. ইয়াদুল হক জেলা নায়েবে আমির জামায়াতে ইসলামী মাদারীপুর প্রমুখ।

লালপুর (নাটোর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে এমপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের সাইপাড়া, কচুয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ ভোটারেদ সাথে কুশল বিনিময় ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়ন কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে দুটি গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছেন। তিনি প্রতিটি নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগে নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন বলে দাবি তাদের।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘একটা দল ইসলাম ও বেহেশতের কথা বলে সহজ সরল ধর্মভীরু ভোটারদের কাছে গিয়ে নানা কৌশলে ভোট চাচ্ছেন, এদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। গত শুক্রবার রাতে কলাপাড়া পৌরশহরের মিনি মার্কেটে পৌর বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

কলাপাড়া পৌরশহরের মিনি মার্কেটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল হক পনির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু প্রমুখ।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজবাড়ী ১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া পদ্মা সেতুও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে হলে এই অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নসহ প্রতিটি বালুর কণা সোনায় পরিণত হবে। গত শুক্রবার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে নির্বাচনীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোহন ম-লের সভাপতিত্বে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খানের সঞ্চালনায় পথ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে প্রতিপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সে চেষ্টা সফল হবে না। গত শুক্রবার ফটিকছড়ির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কিছু রাজনৈতিক পক্ষ তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকা- প্রত্যাশিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)
‎ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ গতকাল উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ এবং পথসভা করেছেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, জেলা যুবদলের সদস্য আ. মতিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক ১নং সদস্য এমএ হান্নান তার প্রতীক চিংড়ির সমর্থনে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন এবং গণসংযোগে অংশ নেন।

বাহুবল (হবিগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। নির্বাচনী মাঠে তাকে কেন্দ্র করে চলছে টানা গণসংযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা। এই প্রচারণায় তার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় জোটের ভোটসমীকরণ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বাস্তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত দুই প্রার্থীকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, ত্রিমুখী লড়াইয়ের আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হবিগঞ্জ-১ আসনে মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে ড. রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাত মিয়াকে কেন্দ্র করেই। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জেলাজুড়ে কৌতূহল ও আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।