ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্ত মাঠে কথার উত্তাপ অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩ বার

সারাদেশে জমজমাট নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছেন ভোটার

প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের রাজনীতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে প্রচারণা চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশের জাতীয় নির্বাচন যেমন সার্বজনীন হয়ে উঠেছে, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষ্যের বিরুদ্ধে যেমন নানান অভিযোগ করছেন; তেমনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। কথামালার যুদ্ধে এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে নরম-গরম অম্লমধুর অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ চললেও ভোটের জমজমাট প্রচারণা চলছে। প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিশ্রুতি, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি কৌশলী বক্তব্য, জনসভা, জনসংযোগে সারাদেশে বইছে এখন নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বহু বছর পর রাজনৈতিক দলগুলোর সহবস্থানে থেকে এমন নির্বাচনী প্রচারণা দেখা যায়নি। তাই এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে দেশ।

নির্বাচন কমিশনের ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা কোমড় বেঁধে প্রচারণায় নেমেছেন। বিএনপি, জামায়াতের নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন, ৯টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনের প্রচারণায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট এবং জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান পঞ্চগড় থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম কাদের রংপুর এবং ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বরিশাল থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে প্রার্থী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা প্রতিপক্ষকে কথার যুদ্ধে ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সিনিয়র নেতারা প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের ঘায়েল করতে এবং নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগের তীর ছুড়ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেমন প্রধান প্রতিপক্ষ জাতায়াতের বিরুদ্ধে ‘দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির প্রতিশ্রুতির প্রচারণাকে ‘প্রতারণা’ অভিহিত করে ভোটারদের সতর্ক করছেন; একই সঙ্গে ভোটারদের আইডি কার্ডের নাম্বার এবং বিকাশ নম্বর নেয়ার কঠোর সমালোচনা করছেন। তেমনি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে চাঁদাবাজদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট পাওয়ার লোভকে শিরক ও গুনাহের কাজ অভিহিত করেছেন; তেমনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, তারেক রহমান এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন, বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন।
এবার নির্বাচনে বিএনপির ২৮৮ জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন; জামায়াতের ২২৪ জন; জাতীয় পার্টির ১৯২ জন; গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন, বাম যুক্তফ্রন্টের ৬২ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর বাইরে ছোট ছোট দল জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিকেই শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তোড় ঝাড়ছেন। প্রচারণায় নেমে বিএনপি যেমন অভিযোগের বিষে প্রতিপক্ষ জামায়াতকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে; তেমনি বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগাচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি। ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার সিলেট থেকে শুরু করেন ২২ জানুয়ারি। প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন সিলেটে ১৫টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথা তরুণদের নিয়ে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রচারযাত্রা শুরু করেন। অতঃপর মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যখন মঞ্চে ওঠেন তখন ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন অতিবাহিত হয়ে পরের দিনের আগের ভোর পৌনে চারটা। এসব সমাবেশে ‘জান্নাতের টিকিট দেয়ার’ কথা বলে জামায়াতের ভোট চাওয়া ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতায় দলটির ভূমিকার সমালোচনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তোলেন। মৌলভীবাজারের সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে। এখন আরেকটি রাজনৈতিক দল (জামায়াত) এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে। হবিগঞ্জের সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে; তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন কথা বলে- তাদের এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল পিন্ডিতে। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দিল্লিকে খুশি করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াত পাশের দেশ ভারতের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করেন। প্রখ্যাত দার্শনিক ফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ককে দেশের জন্য অশনি সংকট হিসেবে অভিহিত করেন।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে শুরু করে ২৩ জুলাই ভোররাত পর্যন্ত ৬টি জেলায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগের পাশাপাশি আগামীতে দুস্থদের জন্য ‘পারিবারিক কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দেয়ার ঘোষণা দেন। গতকালও তারেক রহমান রাজধানী ঢাকায় এবং নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতায় জামায়াতের বিরুদ্ধে তোপ দাগান। অন্যদিকে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করলেও তাকে ইঙ্গিত করে গতকাল পঞ্চগড়ের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামী দিনে বেকার এবং দায়-দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারো দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না।’

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার, সততা, মানবিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তাদের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাঁদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। ধর্মীয় ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে?

পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টিয়ে দেবো। বলব, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এত দিন টেকনাফ থেকে উন্নয়ন হয়েছে, এখন ব্যালান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। আপনারা মন খারাপ করবেন না তো?’ এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করে জামায়াত। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী এ জনসভায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা নিজের দলের লোকদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, পাথর মেরে হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে আশা করি তারা আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। আর যারা এগুলো করতে পারবে না তারা যতই স্বপ্ন দেখাবেন জাতি তাদের মতলব বুঝতে মোটেই কোনো অসুবিধা হবে না।

গতকাল খুলনা-৫ নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একজন মুসলমান, যিনি আল্লাহ, রাসূল ও আখেরাতকে বিশ্বাস করেন, তিনি পরকালে বিশ্বাসী আরেকজনকে কাফের বলতে পারেন না, এটি জায়েজ নয়। তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন। আমরা ধারণা করেছিলাম, উনি (তারেক রহমান) লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি যে উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের। এটা বলার তার কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সৌজন্যতা, শিষ্টাচারবোধের জায়গা থেকেও এই কথা বলা যায় না।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুরের কেরামতিয়া মসজিদে কেরামত আলী (র.) কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ‘না’তে ভোট দিয়ে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জি এম কাদের। তিনি অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে বাধার মুখে পড়ছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে বামপন্থি ৯টি দলের নির্বাচনী জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের সামনে বলেন, দুইটা ভোট হবে, একটা হলো এমপি ভোট, আরেকটা গণভোট। হওয়ার কথা নিরপেক্ষ ভোট। সেখানে তিনটা পক্ষ হতে পারে। একটা পক্ষ ‘হ্যাঁ’ বলবে, একটা পক্ষ ‘না’ বলবে, একটা পক্ষ বিরত থাকবে। সরকার যদি বলে ধানের শীষে ভোট দাও বা এই মার্কায় ভোট দাও, কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও, সরকার কি দাবি করতে পারে যে ‘আমরা নিরপেক্ষ’? তাহলে মানুষ এত রক্ত দিলো কেন?

১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? এর আগে সকালে ঢাকায় তিন নেতার মাজার ও শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করে এনসিপি।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ ইসলামি আইন চায়। শরীয়াহভিত্তিক দেশ গড়তে চায়। কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে যদি দেশ গড়তে পারি; তাহলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। গতকাল ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী দল আমাদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। তারা ক্ষমতায় গিয়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না এবং শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। ওই দল (জামায়াত) ভারতের সঙ্গে গোপনে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। ওই দলটি পরীক্ষিত সাথীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে। এ প্রতারকদের ক্ষমতায় যাওয়ার আমরা সিঁড়ি হতে চাই না। সে কারণে আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ১১ দলীয় জোট ছেড়ে দিয়েছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শান্ত মাঠে কথার উত্তাপ অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে জমজমাট নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছেন ভোটার

প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের রাজনীতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে প্রচারণা চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশের জাতীয় নির্বাচন যেমন সার্বজনীন হয়ে উঠেছে, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষ্যের বিরুদ্ধে যেমন নানান অভিযোগ করছেন; তেমনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। কথামালার যুদ্ধে এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে নরম-গরম অম্লমধুর অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগ চললেও ভোটের জমজমাট প্রচারণা চলছে। প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিশ্রুতি, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি কৌশলী বক্তব্য, জনসভা, জনসংযোগে সারাদেশে বইছে এখন নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বহু বছর পর রাজনৈতিক দলগুলোর সহবস্থানে থেকে এমন নির্বাচনী প্রচারণা দেখা যায়নি। তাই এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে দেশ।

নির্বাচন কমিশনের ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা কোমড় বেঁধে প্রচারণায় নেমেছেন। বিএনপি, জামায়াতের নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন, ৯টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনের প্রচারণায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট এবং জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান পঞ্চগড় থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম কাদের রংপুর এবং ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বরিশাল থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে প্রার্থী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা প্রতিপক্ষকে কথার যুদ্ধে ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সিনিয়র নেতারা প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের ঘায়েল করতে এবং নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগের তীর ছুড়ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেমন প্রধান প্রতিপক্ষ জাতায়াতের বিরুদ্ধে ‘দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির প্রতিশ্রুতির প্রচারণাকে ‘প্রতারণা’ অভিহিত করে ভোটারদের সতর্ক করছেন; একই সঙ্গে ভোটারদের আইডি কার্ডের নাম্বার এবং বিকাশ নম্বর নেয়ার কঠোর সমালোচনা করছেন। তেমনি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে চাঁদাবাজদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেস্তের টিকিট পাওয়ার লোভকে শিরক ও গুনাহের কাজ অভিহিত করেছেন; তেমনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, তারেক রহমান এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন, বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন।
এবার নির্বাচনে বিএনপির ২৮৮ জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন; জামায়াতের ২২৪ জন; জাতীয় পার্টির ১৯২ জন; গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন, বাম যুক্তফ্রন্টের ৬২ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর বাইরে ছোট ছোট দল জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিকেই শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তোড় ঝাড়ছেন। প্রচারণায় নেমে বিএনপি যেমন অভিযোগের বিষে প্রতিপক্ষ জামায়াতকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে; তেমনি বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগাচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি। ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার সিলেট থেকে শুরু করেন ২২ জানুয়ারি। প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন সিলেটে ১৫টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথা তরুণদের নিয়ে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রচারযাত্রা শুরু করেন। অতঃপর মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যখন মঞ্চে ওঠেন তখন ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন অতিবাহিত হয়ে পরের দিনের আগের ভোর পৌনে চারটা। এসব সমাবেশে ‘জান্নাতের টিকিট দেয়ার’ কথা বলে জামায়াতের ভোট চাওয়া ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতায় দলটির ভূমিকার সমালোচনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তোলেন। মৌলভীবাজারের সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে। এখন আরেকটি রাজনৈতিক দল (জামায়াত) এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে। হবিগঞ্জের সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে; তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন কথা বলে- তাদের এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল পিন্ডিতে। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দিল্লিকে খুশি করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াত পাশের দেশ ভারতের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করেন। প্রখ্যাত দার্শনিক ফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ককে দেশের জন্য অশনি সংকট হিসেবে অভিহিত করেন।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে শুরু করে ২৩ জুলাই ভোররাত পর্যন্ত ৬টি জেলায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগের পাশাপাশি আগামীতে দুস্থদের জন্য ‘পারিবারিক কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দেয়ার ঘোষণা দেন। গতকালও তারেক রহমান রাজধানী ঢাকায় এবং নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতায় জামায়াতের বিরুদ্ধে তোপ দাগান। অন্যদিকে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করলেও তাকে ইঙ্গিত করে গতকাল পঞ্চগড়ের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামী দিনে বেকার এবং দায়-দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারো দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না।’

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার, সততা, মানবিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তাদের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাঁদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। ধর্মীয় ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে?

পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টিয়ে দেবো। বলব, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এত দিন টেকনাফ থেকে উন্নয়ন হয়েছে, এখন ব্যালান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। আপনারা মন খারাপ করবেন না তো?’ এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করে জামায়াত। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী এ জনসভায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা নিজের দলের লোকদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, পাথর মেরে হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে আশা করি তারা আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। আর যারা এগুলো করতে পারবে না তারা যতই স্বপ্ন দেখাবেন জাতি তাদের মতলব বুঝতে মোটেই কোনো অসুবিধা হবে না।

গতকাল খুলনা-৫ নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একজন মুসলমান, যিনি আল্লাহ, রাসূল ও আখেরাতকে বিশ্বাস করেন, তিনি পরকালে বিশ্বাসী আরেকজনকে কাফের বলতে পারেন না, এটি জায়েজ নয়। তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন। আমরা ধারণা করেছিলাম, উনি (তারেক রহমান) লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি যে উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের। এটা বলার তার কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সৌজন্যতা, শিষ্টাচারবোধের জায়গা থেকেও এই কথা বলা যায় না।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুরের কেরামতিয়া মসজিদে কেরামত আলী (র.) কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ‘না’তে ভোট দিয়ে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জি এম কাদের। তিনি অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে বাধার মুখে পড়ছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে বামপন্থি ৯টি দলের নির্বাচনী জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের সামনে বলেন, দুইটা ভোট হবে, একটা হলো এমপি ভোট, আরেকটা গণভোট। হওয়ার কথা নিরপেক্ষ ভোট। সেখানে তিনটা পক্ষ হতে পারে। একটা পক্ষ ‘হ্যাঁ’ বলবে, একটা পক্ষ ‘না’ বলবে, একটা পক্ষ বিরত থাকবে। সরকার যদি বলে ধানের শীষে ভোট দাও বা এই মার্কায় ভোট দাও, কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও, সরকার কি দাবি করতে পারে যে ‘আমরা নিরপেক্ষ’? তাহলে মানুষ এত রক্ত দিলো কেন?

১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? এর আগে সকালে ঢাকায় তিন নেতার মাজার ও শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করে এনসিপি।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ ইসলামি আইন চায়। শরীয়াহভিত্তিক দেশ গড়তে চায়। কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে যদি দেশ গড়তে পারি; তাহলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। গতকাল ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী দল আমাদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। তারা ক্ষমতায় গিয়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না এবং শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। ওই দল (জামায়াত) ভারতের সঙ্গে গোপনে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। ওই দলটি পরীক্ষিত সাথীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে। এ প্রতারকদের ক্ষমতায় যাওয়ার আমরা সিঁড়ি হতে চাই না। সে কারণে আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ১১ দলীয় জোট ছেড়ে দিয়েছি।