ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতে গোসলের খারাপ দিক ও ঝুঁকি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ বার

পৌষ-মাঘের হাড়কাঁপানো শীতে বাঙালির জনজীবন যখন জবুথবু, তখন দিনের সবচেয়ে কঠিন কাজ হিসেবে ধরা হয় ‘গোসল’ করাকে। গ্রাম থেকে শহর-সবার মনেই যেন এক সুপ্ত আতঙ্ক, এই বুঝি গায়ে পানি ঢালতে হবে! সোশ্যাল মিডিয়ায় গোসল না করা নিয়ে মিম আর ট্রলের ঝড় উঠলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যগত ভালো ও মন্দের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

​বাংলাদেশের আবহাওয়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে শীতে গোসলের ভালো ও খারাপ দিকগুলো পর্যালোচনা করা হলো।

​গোসল ভীতির কারণ:
​বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শীতকালে ট্যাপের পানি বা পুকুরের পানি এতটাই ঠান্ডা থাকে যে তা শরীরে লাগলে ‘কোল্ড শক’ (Cold Shock) অনুভূত হয়। মূলত শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে পানির তাপমাত্রা অনেক কম হওয়ায় মস্তিষ্ক সতর্ক সংকেত পাঠায়, যা থেকেই এই ভয়ের উৎপত্তি।

শীতে গোসলের ভালো দিক:
​শীতের আলসেমি কাটিয়ে গোসল করার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে:
​১. ত্বকের সুরক্ষায়: শীতে ধুলোবালি বেশি ওড়ে। নিয়মিত গোসল না করলে ত্বকে ধূলি জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে অ্যাকনে বা ফুসকুড়ি হতে পারে।
২. রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা পেশির জড়তা কাটাতে এবং শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৩. মানসিক সতেজতা: শীতে অনেকের মধ্যে ‘সিজনাল ডিপ্রেশন’ বা মনমরা ভাব দেখা দেয়। একটি সুন্দর গোসল নিমেষেই মানসিক ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চনমনে করে তোলে।
৪. রোগ প্রতিরোধ: শরীর পরিষ্কার থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ (যেমন: খোসপাঁচড়া, দাদ) থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, যা শীতে বেশি ছড়ায়।

শীতে গোসলের খারাপ দিক ও ঝুঁকি:
​অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা ভুল পদ্ধতিতে গোসল করা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য:
​১. স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: চিকিৎসকদের মতে, হঠাত করে মাথায় কনকনে ঠান্ডা পানি ঢাললে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে ব্রেন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশে শীতকালে বয়স্কদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।
২. হাইপোথার্মিয়া: দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যেতে পারে, যা হাইপোথার্মিয়ার কারণ হতে পারে।
৩. ত্বকের শুষ্কতা: খুব বেশি গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Natural Oil) নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক ফেটে যায় এবং চুলকানি বাড়ে।
৪. শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া: যাদের অ্যাজমা বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে, কনকনে ঠান্ডা পানি তাদের শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নিউমোনিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

​চিকিৎসকদের পরামর্শ:
​শীতে গোসল নিয়ে ভয় না পেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
​পানি ও তাপমাত্রা: কনকনে ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন। আবার খুব বেশি গরম পানিও ব্যবহার করবেন না। শরীরের তাপমাত্রার সাথে মানানসই ‘কুসুম গরম পানি’ ব্যবহার করাই উত্তম।

​গোসলের নিয়ম:
গোসলের শুরুতে সরাসরি মাথায় পানি ঢালবেন না। প্রথমে পায়ে, তারপর কাঁধে এবং সবশেষে মাথায় পানি দিন। এতে শরীর তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শীতে গোসলের খারাপ দিক ও ঝুঁকি

আপডেট টাইম : ১১:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষ-মাঘের হাড়কাঁপানো শীতে বাঙালির জনজীবন যখন জবুথবু, তখন দিনের সবচেয়ে কঠিন কাজ হিসেবে ধরা হয় ‘গোসল’ করাকে। গ্রাম থেকে শহর-সবার মনেই যেন এক সুপ্ত আতঙ্ক, এই বুঝি গায়ে পানি ঢালতে হবে! সোশ্যাল মিডিয়ায় গোসল না করা নিয়ে মিম আর ট্রলের ঝড় উঠলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যগত ভালো ও মন্দের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

​বাংলাদেশের আবহাওয়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে শীতে গোসলের ভালো ও খারাপ দিকগুলো পর্যালোচনা করা হলো।

​গোসল ভীতির কারণ:
​বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শীতকালে ট্যাপের পানি বা পুকুরের পানি এতটাই ঠান্ডা থাকে যে তা শরীরে লাগলে ‘কোল্ড শক’ (Cold Shock) অনুভূত হয়। মূলত শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে পানির তাপমাত্রা অনেক কম হওয়ায় মস্তিষ্ক সতর্ক সংকেত পাঠায়, যা থেকেই এই ভয়ের উৎপত্তি।

শীতে গোসলের ভালো দিক:
​শীতের আলসেমি কাটিয়ে গোসল করার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে:
​১. ত্বকের সুরক্ষায়: শীতে ধুলোবালি বেশি ওড়ে। নিয়মিত গোসল না করলে ত্বকে ধূলি জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে অ্যাকনে বা ফুসকুড়ি হতে পারে।
২. রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা পেশির জড়তা কাটাতে এবং শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৩. মানসিক সতেজতা: শীতে অনেকের মধ্যে ‘সিজনাল ডিপ্রেশন’ বা মনমরা ভাব দেখা দেয়। একটি সুন্দর গোসল নিমেষেই মানসিক ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চনমনে করে তোলে।
৪. রোগ প্রতিরোধ: শরীর পরিষ্কার থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ (যেমন: খোসপাঁচড়া, দাদ) থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, যা শীতে বেশি ছড়ায়।

শীতে গোসলের খারাপ দিক ও ঝুঁকি:
​অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা ভুল পদ্ধতিতে গোসল করা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য:
​১. স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: চিকিৎসকদের মতে, হঠাত করে মাথায় কনকনে ঠান্ডা পানি ঢাললে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে ব্রেন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশে শীতকালে বয়স্কদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।
২. হাইপোথার্মিয়া: দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যেতে পারে, যা হাইপোথার্মিয়ার কারণ হতে পারে।
৩. ত্বকের শুষ্কতা: খুব বেশি গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Natural Oil) নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক ফেটে যায় এবং চুলকানি বাড়ে।
৪. শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া: যাদের অ্যাজমা বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে, কনকনে ঠান্ডা পানি তাদের শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নিউমোনিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

​চিকিৎসকদের পরামর্শ:
​শীতে গোসল নিয়ে ভয় না পেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
​পানি ও তাপমাত্রা: কনকনে ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন। আবার খুব বেশি গরম পানিও ব্যবহার করবেন না। শরীরের তাপমাত্রার সাথে মানানসই ‘কুসুম গরম পানি’ ব্যবহার করাই উত্তম।

​গোসলের নিয়ম:
গোসলের শুরুতে সরাসরি মাথায় পানি ঢালবেন না। প্রথমে পায়ে, তারপর কাঁধে এবং সবশেষে মাথায় পানি দিন। এতে শরীর তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে পারে।