ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে আইভী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৬
  • ৪৫৯ বার

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (নাসিক) আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী কী এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। বিগত ২০১২ সালের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

নাসিকের গত নির্বাচনের ফলাফল দেখে অনেকেই বলেছিলেন, আইভীর ইমেজ ও ক্যারিশমায় এই বিজয় অর্জন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা ও গাজীপুরে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা যখন বিএনপির আনকোড়া প্রার্থীদের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হলেন, তখন পর্যবেক্ষকরা বললেন নারায়ণগঞ্জের পরাজয়ও শামীম ওসমানের পরাজয় ছিল না। ছিল আওয়ামী লীগের পরাজয়।

ওই সময় নানা বির্তকে সরকার বিরোধী জনমত ছিল বিএনপির অনুকূলে। তাই বিএনপি বিজয় ঘরে তুলেছিল একের পর এক। সেইবার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানকে তাদের নিজস্ব সমর্থক ও আওয়ামী লীগের হার্ড লাইনের ভোটাররা ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের একাংশ, বামপন্থী ও সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা ঝাপিয়ে পড়েছিলেন আইভীকে জেতাতে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সকল শক্তি ভোটযুদ্ধে আইভীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

সেলিনা হায়াৎ আইভী এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দলের একাংশ তার সঙ্গে থাকলেও বিগত নির্বাচনের মতো বাড়তি সুবিধা কতটা পাবেন এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা শামীম ওসমান-আইভীকে মিলমিশ করিয়ে দিলেও নারায়ণগঞ্জে গিয়ে দুজনই যার যার মতো অবস্থানে। মনোনয়ন জমাদানের সময় আইভী শামীম ওসমানকে ডাকেননি। এমনকি তিনি বলেছেন, শামীম ওসমান এলে ভালো, না এলে আরো ভালো। সর্বশেষ শামীম ওসমানের পিতা, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক একেএম শামসুজ্জোহাকে নিয়ে মন্তব্য করায় শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ। শামীম এখন তার নেত্রী ফিরলেই নালিশ করতে চান।

এদিকে, বিএনপি এবার দলের হার্ডকোরের কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনকে। সাখাওয়াত হোসেনে ক্লিন ইমেজ রয়েছে। আওয়ামী লীগের একাংশসহ সরকার বিরোধী অনেকেই এবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নামতে পারেন। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে সেলিনা হায়াৎ আইভী সুবিধা ভোগ করেছিলেন, এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী হওয়ায় অসুবিধা ভোগ করবেন এমটাই মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তাছাড়া, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় নামলে দলের ঘুমন্ত নেতাকর্মীরা জেগে উঠতে পারেন।

আইভী একটি সাহসী ইমেজ গড়লেও দীর্ঘদিন ধরে নগরভবনের চাবি তার হাতে। পৌর চেয়ারম্যান থেকে মেয়র, পুরোনো হওয়ায় সুবিধা যেমন রয়েছে তার নেতিবাচক দিকও রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেষ হাসি কে হাসবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিগত নির্বাচনে বিনা চ্যালেঞ্জেই প্রায় আইভী জিতেছিলেন। এবার তিনি চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বেন। এই নির্বাচন আইভীর জন্য অগ্নিপরীক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে আইভী

আপডেট টাইম : ১১:৫০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (নাসিক) আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী কী এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। বিগত ২০১২ সালের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

নাসিকের গত নির্বাচনের ফলাফল দেখে অনেকেই বলেছিলেন, আইভীর ইমেজ ও ক্যারিশমায় এই বিজয় অর্জন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা ও গাজীপুরে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা যখন বিএনপির আনকোড়া প্রার্থীদের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হলেন, তখন পর্যবেক্ষকরা বললেন নারায়ণগঞ্জের পরাজয়ও শামীম ওসমানের পরাজয় ছিল না। ছিল আওয়ামী লীগের পরাজয়।

ওই সময় নানা বির্তকে সরকার বিরোধী জনমত ছিল বিএনপির অনুকূলে। তাই বিএনপি বিজয় ঘরে তুলেছিল একের পর এক। সেইবার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানকে তাদের নিজস্ব সমর্থক ও আওয়ামী লীগের হার্ড লাইনের ভোটাররা ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের একাংশ, বামপন্থী ও সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা ঝাপিয়ে পড়েছিলেন আইভীকে জেতাতে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সকল শক্তি ভোটযুদ্ধে আইভীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

সেলিনা হায়াৎ আইভী এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দলের একাংশ তার সঙ্গে থাকলেও বিগত নির্বাচনের মতো বাড়তি সুবিধা কতটা পাবেন এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা শামীম ওসমান-আইভীকে মিলমিশ করিয়ে দিলেও নারায়ণগঞ্জে গিয়ে দুজনই যার যার মতো অবস্থানে। মনোনয়ন জমাদানের সময় আইভী শামীম ওসমানকে ডাকেননি। এমনকি তিনি বলেছেন, শামীম ওসমান এলে ভালো, না এলে আরো ভালো। সর্বশেষ শামীম ওসমানের পিতা, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক একেএম শামসুজ্জোহাকে নিয়ে মন্তব্য করায় শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ। শামীম এখন তার নেত্রী ফিরলেই নালিশ করতে চান।

এদিকে, বিএনপি এবার দলের হার্ডকোরের কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনকে। সাখাওয়াত হোসেনে ক্লিন ইমেজ রয়েছে। আওয়ামী লীগের একাংশসহ সরকার বিরোধী অনেকেই এবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নামতে পারেন। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে সেলিনা হায়াৎ আইভী সুবিধা ভোগ করেছিলেন, এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী হওয়ায় অসুবিধা ভোগ করবেন এমটাই মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তাছাড়া, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় নামলে দলের ঘুমন্ত নেতাকর্মীরা জেগে উঠতে পারেন।

আইভী একটি সাহসী ইমেজ গড়লেও দীর্ঘদিন ধরে নগরভবনের চাবি তার হাতে। পৌর চেয়ারম্যান থেকে মেয়র, পুরোনো হওয়ায় সুবিধা যেমন রয়েছে তার নেতিবাচক দিকও রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেষ হাসি কে হাসবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিগত নির্বাচনে বিনা চ্যালেঞ্জেই প্রায় আইভী জিতেছিলেন। এবার তিনি চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বেন। এই নির্বাচন আইভীর জন্য অগ্নিপরীক্ষা।